‘চাইনিজ’ বলে হামলা চালিয়ে বিএসএফ সদস্যের ছেলেকে হত্যা
ত্রিপুরার উত্তর জেলার পেচারথল এলাকার বাসিন্দা ও এমবিএ শিক্ষার্থী অ্যাঞ্জেল চাকমা ৯ ডিসেম্বর দেরাদুনে হামলার শিকার হন। মদ্যপ অবস্থায় থাকা একদল যুবক অ্যাঞ্জেল এবং তার ভাই মাইকেলকে ‘চাইনিজ’, ‘চিঙ্কি’ ও ‘মোমোস’ নামে জাতিগত গালিগালাজ করে আক্রমণ করে। গুরুতর আহত অ্যাঞ্জেল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ ডিসেম্বর মারা যান।
স্থানীয় পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে, তবে মূল অভিযুক্ত এখনও পলাতক। ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়া (সিডিএফআই) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, পুলিশ তিন দিন দেরিতে এফআইআর নথিভুক্ত করেছে এবং প্রয়োজনীয় জাতিগত সহিংসতা বিরোধী ধারাগুলো প্রয়োগ করেনি।
সিডিএফআই আরও বলেছে, ঘটনার সঙ্গে পূর্ববর্তী জাতিগত সহিংসতার ঘটনা যেমন ২০১৪ সালের নিডো তানিয়ার হত্যাকাণ্ডের মিল রয়েছে। তারা দাবি করেছে, নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং উত্তরের পূর্বাঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষ হেল্পলাইন চালু করার প্রয়োজন।
উত্তরাখণ্ডের প্রশাসনের ধীরগতি এবং জাতিগত বিদ্বেষমূলক সহিংসতার পদক্ষেপ নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসনের সময়মত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপই ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হতে পারে।
এই ঘটনা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান বৈষম্য ও সহিংসতার পুনরাবৃত্তির প্রমাণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।


