জাপানে ভূমিকম্পের পর শক্তিশালী আফটারশকের আশঙ্কা
জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর দেশজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১৫ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ধরনের আফটারশক আঘাত হানতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল উপকূল থেকে প্রায় ৪৪ মাইল দূরে এবং ভূগর্ভের গভীরতা প্রায় ৩৩ মাইল। তীব্র এই কম্পন কেন্দ্রস্থল থেকে ৪০০ মাইল দূরের টোকিওতেও ৩০ সেকেন্ডের বেশি সময় অনুভূত হয়।
ঘটনার কয়েকদিন আগে জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি (জেএমএ) সতর্ক করেছিল যে, এই সপ্তাহে ৮ মাত্রা বা তার বেশি শক্তির ভূমিকম্প হতে পারে। যদিও এর সম্ভাবনা খুবই কম—মাত্র এক শতাংশ—তবুও তারা নাগরিকদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল।
ভূমিকম্পের পরপরই হোক্কাইডো, আওমোরি ও ইওয়াতে অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করে জেএমএ। প্রত্যাশার তুলনায় ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল কম—ইওয়াতের কুজি বন্দরে ২.৩ ফুট এবং হোক্কাইডো–আওমোরি এলাকায় ১.৩ ফুট উচ্চতার ঢেউ দেখা যায়। পরবর্তীতে সতর্কতাটি কমিয়ে সুনামি পরামর্শে রূপান্তর করা হয় এবং মঙ্গলবার সকালে সেটিও প্রত্যাহার করা হয়।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সনায়ে তাকাইচি বলেন, ভূমিকম্পে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। প্রধান ক্যাবিনেট সচিব মিনোরু কিহারা জানান, আওমোরিতে আগুন লাগার ঘটনা ও বিভিন্ন স্থানে আহতের খবর পাওয়া গেছে।
আওমোরি ও ইওয়াতে অঞ্চলে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। ফুকুশিমা থেকে আওমোরি পর্যন্ত শিনকানসেন উচ্চগতির ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিছু মহাসড়কও সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
রয়টার্সের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আওমোরির মুত্সু শহরে একটি হোটেলসহ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সড়ক ফেটে যাওয়ায় একটি গাড়ি আটকা পড়ে আছে।
কিহারা জানিয়েছেন, হিগাশিদোরি ও ওনাগাওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি। অন্যান্য স্থাপনাগুলোও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ারের ওপর অবস্থিত হওয়ায় নিয়মিতই ভূমিকম্পের মুখোমুখি হয়। ২০১১ সালের তোহোকু ভূমিকম্প ও সুনামি দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী দুর্যোগগুলোর একটি, যেখানে ২২ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


