‘এভাবে চললে মাইনাস-ওয়ান নয়, মাইনাস-এভরিওয়ান হয়ে যাবে’
পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)-এর মহাপরিচালক লে. জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী দাবি করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সেনাবাহিনীবিরোধী বক্তব্য তৈরি ও ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যা রাজনৈতিক সীমারেখা ছাড়িয়ে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইমরান খান কোনোভাবেই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি নন। পাশাপাশি তারা অভিযোগ করেছে, সাম্প্রতিক ২৬তম ও ২৭তম সাংবিধানিক সংশোধনী দেশটিতে গণতন্ত্রকে দুর্বল করেছে।
পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গোহর আলী বলেন, “আইএসপিআরের মন্তব্য অনুচিত ও ভুল। প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতা ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “কিছু পক্ষ প্রধান রাজনৈতিক দল ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাইছে। ছোট ছোট অনুপযুক্ত কথার মধ্যেও বড় ধরনের বিপর্যয় শুরু হতে পারে।”
গোহর আলী আরও বলেন, পরিস্থিতি এখনো শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। তিনি আহ্বান জানিয়েছেন—ভাষার তীব্রতা কমিয়ে ইতিবাচক পথে এগোনো হোক, ইমরান খানের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে কোনো বাধা না দেওয়া হোক এবং তার বোনদের সঙ্গে সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি না করা হোক।
গোহর বলেন, দেশ উন্নতি ও অগ্রগতি পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু বর্তমান উত্তেজনা চলতে থাকলে ‘এটা মাইনাস-ওয়ান নয়, মাইনাস-এভরিওয়ানে’ গিয়ে ঠেকবে—যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
গোহর আলী দাবি করেন, পিটিআই দেশটির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল এবং ইমরান খানের প্রতি জনসাধারণের সমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশ। তিনি জানান, “আমরা ১৮০ আসন থেকে নেমে এসেছি ৯১-এ, এখন ৭৬-এ। সংরক্ষিত আসন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা হয়েছে। এই অবিচারের ইতিহাস আলাদা।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দলটি গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে টিকে আছে। পিটিআই সবসময় গণতন্ত্র, শান্তি, আইনের শাসন এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের ওপর স্থাপন করেছে। ইমরান খানও বারবার বলেছেন, পাকিস্তান ও তার সেনাবাহিনী জনগণেরই।
গত এক বছরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পিটিআই জনগণ ও সেনাবাহিনীর পাশে থেকেছে বলে মন্তব্য করেন গোহর। তবে সাম্প্রতিক সাংবিধানিক সংশোধনীর পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “গতকালের সংবাদ সম্মেলন ছিল গভীরভাবে হতাশাজনক। আমাদের নেতা ইমরান খানের মামলার শুনানি বিলম্বিত। এখন আমরা শুধুমাত্র তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতির জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।”
শেষে গোহর আলী বলেন, “আমরা যা সহ্য করেছি তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য। তবে যদি বর্তমান অবস্থাই অব্যাহত থাকে, তাহলে সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা গণতন্ত্রই ভোগ করবে।”


