নির্বাচনের আগে সমান সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান নুরুল হকের
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে আগে ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, মৌলিক রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া নির্বাচন আয়োজন হলে সেটি পুনরায় বিতর্কিত হয়ে উঠতে পারে।
শনিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
নুর বলেন,
“নির্বাচনের আগে দেশের সকল রাজনৈতিক দল যেন স্বাধীনভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারে—সে পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন,
“সংবিধান, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের সংস্কার ছাড়া জনগণের আকাঙ্ক্ষার সরকার গঠন সম্ভব নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত হবে নির্বাচনমুখী নয়, সংস্কারমুখী পদক্ষেপ নেওয়া।”
এর আগে দুপুর ২টায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় জামায়াতের জাতীয় সমাবেশের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ঢল নামে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুষ্ঠু নির্বাচন, পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) ভিত্তিক ভোটপ্রণালী, গণহত্যার বিচার ও ২০২৪ সালের ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর চেতনা বাস্তবায়নের দাবিতে এই সমাবেশ আয়োজন করা হয়।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“এটি আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। আমরা নতুন প্রজন্মকে জনগণের রাষ্ট্র গঠনের পথে আহ্বান জানাচ্ছি।”
সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদ ছাড়াও কয়েকটি ছোট রাজনৈতিক দল, নাগরিক সংগঠন ও জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা রাজনৈতিক সহনশীলতা, মানবাধিকার এবং সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন।
জামায়াতের শীর্ষ নেতারা দাবি করেন, এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে তারা প্রমাণ করতে পেরেছেন—দলটি এখনো জনগণের মধ্যে সংগঠিত শক্তি হিসেবে বিদ্যমান। সমাবেশে প্রায় ১০ হাজারের বেশি বাস, ট্রেন ও লঞ্চের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোক আনা হয়েছে বলে দলটির দাবি।
নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমাবেশ, জোট ও পন্থা বদলের প্রবণতা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জামায়াতের এই জাতীয় সমাবেশ এবং গণঅধিকার পরিষদের মতো নতুন প্রজন্মভিত্তিক দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে।


