শাপলা প্রতীক তালিকাভুক্ত না করায় ইসির সঙ্গে বৈঠকে এনসিপি প্রতিনিধি দল
নির্বাচন ভবনে হাসনাত-সারজিসসহ এনসিপির প্রতিনিধিরা
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক তালিকা থেকে ‘শাপলা’ প্রতীক বাদ পড়ার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনায় বসে দলের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলীয় সংগঠক সারজিস আলম এবং দলের আরও দুই কেন্দ্রীয় নেতা।
গত সপ্তাহে সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার খসড়া সংশোধন করে ১১৫টি প্রতীক সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। এ তালিকায় ‘শাপলা’ প্রতীক রাখা হয়নি, যা নিয়ে আপত্তি তোলে এনসিপি। এর আগে, গত ২২ জুন দলটি নিবন্ধনের সময় ‘শাপলা’ প্রতীক চেয়ে আবেদন করেছিল।
উল্লেখযোগ্যভাবে, নাগরিক ঐক্য নামের একটি ভিন্ন দলও চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল একই প্রতীক দাবি করে। উভয় দলই ইসির সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকে বসলেও, শেষ পর্যন্ত প্রতীকটি তফসিলভুক্ত হয়নি।
বৈঠক শেষে এনসিপির নেতারা সাংবাদিকদের জানান, “শাপলা প্রতীক আমাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে। কমিশনের পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত আমাদের গ্রহণযোগ্যতা ও নির্বাচনী প্রস্তুতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।”
তারা আরও বলেন, কমিশন যদি দাবি আমলে না নেয়, তাহলে তারা আইনগত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেবে।
ইসির একটি সূত্র জানায়, প্রতীক তালিকায় স্থান পেতে হলে সেটি নিয়ে বিতর্ক না থাকা, অতীতে কোনো রাজনৈতিক বিভাজনের সঙ্গে না জড়ানো এবং জনসাধারণের কাছে স্বচ্ছ বার্তা দেওয়ার মতো কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে। ‘শাপলা’ প্রতীক নিয়ে একাধিক পক্ষের দাবি ও রাজনৈতিক ইঙ্গিত থাকায় ইসি এটি অন্তর্ভুক্ত করেনি।
বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নতুন নিবন্ধিত দলগুলোর জন্য নির্ধারিত ১১৫টি প্রতীকের তালিকা আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।


