রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে আরও প্রাণহানি, মৃত ৮
টানা ভারি বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে কুতুপালং, জামতলী ও বালুখালী ক্যাম্পে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন আরও একজন।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, পালংখালীর ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে পাহাড়ধসে বসতঘর চাপা পড়ে একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। তারা হলেন মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস।
এর কিছুক্ষণ পর কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে।
পরে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে নিহত হন উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩)। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, ভারি বৃষ্টির মধ্যেই খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। পৃথক তিনটি ঘটনায় মোট আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছিল। তিনি সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এর আগের রাতেও টানা বর্ষণের কারণে উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে।


