সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব

জাতীয়
সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইনের খসড়া পর্যালোচনায় মন্ত্রিসভা কমিটির সভা। ছবি: সংগৃহীত

৫ নভেম্বর ২০২৬

সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের কারণে কোনো সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়ায়। সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষায় এ বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।

একই সঙ্গে মানহানি, গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা স্পষ্ট করা, মোবাইল কোর্টের বিধান বাদ দেওয়া এবং অনলাইন কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্তকরণে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এসব প্রস্তাব উঠে আসে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মতামত এবং বিভিন্ন অংশীজনের সুপারিশকে গুরুত্ব দিয়ে আইনের খসড়া পরিমার্জনের ওপর জোর দেওয়া হয়। আইনটি যেন সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যম কিংবা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করেন সংশ্লিষ্টরা।

খসড়ার বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনায় মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা এবং সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো পৃথকভাবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট বিধান পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব ওঠে। পাশাপাশি সাইবার স্পেসের সংজ্ঞা আরও সুনির্দিষ্ট করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা স্পষ্ট করার প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে আইনের অস্পষ্ট বা অতিব্যাপক সংজ্ঞার কারণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

এ ছাড়া সংশোধিত আইনে মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখা, কোনো কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার কারণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জানানোর ব্যবস্থা এবং ব্লক করা কনটেন্ট পুনরায় চালুর আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

কোনো সংবাদমাধ্যম বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ দেওয়া এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখার প্রস্তাবও সভায় উঠে আসে।

সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য কাঠামো ও সেখানে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী এবং মেটার মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পরামর্শমূলক আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় সংশোধিত খসড়া আইনটি অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে পুনরায় পরিমার্জন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশের বিষয়ে আলোচনা হয়। জনসাধারণের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে আইনটিকে আরও গ্রহণযোগ্য, কার্যকর ও সময়োপযোগী করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি নাগরিকের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত বিবেচনায় নিয়ে খসড়াটি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

সভায় জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির পক্ষ থেকে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। এতে আইসিটি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. কামরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।