নিউইয়র্কে ইতিহাস: প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি

নিউইয়র্কে ইতিহাস: প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি
নিউজ ডেস্ক
৫ নভেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহর নিউইয়র্কে ইতিহাস গড়লেন জোহরান মামদানি। দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এই তরুণ রাজনীতিক হয়েছেন শহরটির প্রথম মুসলিম মেয়র— যা নিউইয়র্কের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

বুধবার (৫ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

৮৪ লাখেরও বেশি মানুষের এই বৈচিত্র্যময় শহরের নেতৃত্বে আসীন হয়ে ৩৪ বছর বয়সী মামদানি হয়ে গেলেন নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম, দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত ও আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া প্রথম ব্যক্তি, যিনি মেয়রের দায়িত্ব নিচ্ছেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ব্রুকলিনের প্যারামাউন্ট থিয়েটারে আয়োজিত বিজয়োৎসবে মামদানি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন,

“আপনাদের কারণেই আজ এই শহরে ইতিহাস রচিত হলো। এটি কেবল আমার জয় নয়, এটি নিউইয়র্কের প্রতিটি শ্রমজীবী মানুষের জয়।”

নিউইয়র্কের ভোটাররা মামদানির জয়কে ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের চেয়ে বাস্তব ইস্যুভিত্তিক রাজনীতির জয় হিসেবে দেখছেন।
তাদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বাসস্থান সংকট ও সামাজিক বৈষম্যের মতো ইস্যুতে তিনি যে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন, সেটিই ভোটারদের হৃদয় জয় করেছে।

৩৩ বছর বয়সী সমাজকর্মী জোশুয়া উইলসন বলেন,

“বর্তমান রাজনৈতিক বিভাজনের সময় একজন তরুণ, নীতিনিষ্ঠ নেতার উত্থান ছিল প্রয়োজনীয়।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতর প্রজন্মান্তরের পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি।
সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো ছিলেন ধনী দাতাদের ঘনিষ্ঠ ‘পুরোনো ধারার’ রাজনীতিক, আর মামদানি নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে— যা তরুণ ভোটারদের বড় অংশকে আকৃষ্ট করেছে।

কুয়োমো ভোটের দিন মন্তব্য করেন,

“এটা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে এক প্রকার গৃহযুদ্ধ— চরম বামপন্থি ও মধ্যপন্থিদের মধ্যে।”

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ড্রাইভার ইফতেখার খান বলেন,

“৯/১১-এর পর মুসলিমরা যে বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছিলেন, মামদানির জয় আমাদের জন্য এক নতুন শুরু। এটা ঐক্যের প্রতীক।”

নির্বাচনের ঠিক আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে কুয়োমোকে সমর্থন জানালেও, তা ভোটের ফল উল্টো ঘুরিয়ে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

৫৫ বছর বয়সী আইনজীবী অ্যালেক্স লরেন্স বলেন,

“প্রথমে আমি মামদানিকে ভোট দিইনি। কিন্তু তার সততা ও ইতিবাচক মনোভাব আমাকে শেষমেশ তার পাশে দাঁড়াতে প্ররোচিত করেছে।”

নিউইয়র্কের এই নির্বাচনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রজন্মের রাজনৈতিক প্রভাব আরও সুদৃঢ় হলো।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামদানির নেতৃত্ব ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে প্রগতিশীল রাজনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।