গাজা যুদ্ধকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে নতুন নাম প্রস্তাব নেতানিয়াহুর

গাজা যুদ্ধকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে নতুন নাম প্রস্তাব নেতানিয়াহুর
নিউজ ডেস্ক
১৯ অক্টোবর ২০২৫

গাজা সংকটকে নতুন অর্থ দিতে চাচ্ছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রোববার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি গাজায় চলমান যুদ্ধের নামকরণ প্রস্তাব করেন “The War of Redemption”, যার আক্ষরিক অর্থ ‘মুক্তির যুদ্ধ’ বা ‘মুক্তিযুদ্ধ’।

নেতানিয়াহুর মতে, ৭ অক্টোবরের আক্রমণের পর ইসরায়েল যেভাবে দ্রুত সংগঠিত হয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে, তা ছিল “জাতির মুক্তির জন্য এক নির্ধারক সংগ্রাম”।

বৈঠক-পরবর্তী ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন,

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

“আমি সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছি গাজা যুদ্ধের নাম ‘The War of Redemption’ করা হোক। কারণ ৭ অক্টোবরের বিপর্যয়ের পর জাতি এক কঠিন সময় অতিক্রম করেছে। সেই সময়েই আমরা নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, সাহসিকতার সঙ্গে শত্রুর মোকাবিলা করেছি। এটি কেবল একটি প্রতিরক্ষা যুদ্ধ নয়, ছিল জাতীয় পুনর্জাগরণের প্রতীক।”

তিনি আরও বলেন,

“গাজায় যা ঘটেছে তা কেবল একটি যুদ্ধ নয়, এটি ইসরায়েলের স্বাধীনতার দীর্ঘ লড়াইয়েরই ধারাবাহিকতা। জাতির আত্মপরিচয় এবং অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই এই যুদ্ধ।”

নেতানিয়াহু জানান, গাজা যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে লড়াই করা সেনাদের জন্য সরকার বিশেষ সম্মাননা ও বীরত্ব পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার মতে, এই সম্মাননা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং গোটা জাতির আত্মত্যাগ ও প্রতিরোধের প্রতিচ্ছবি।

তবে অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, নেতানিয়াহুর এই ঘোষণার পেছনে রাজনৈতিক কৌশল থাকতে পারে।
কয়েকজন পর্যবেক্ষক বলছেন, গাজা যুদ্ধকে “মুক্তিযুদ্ধ” হিসেবে আখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহু একদিকে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড় করতে চাইছেন, অন্যদিকে যুদ্ধের একটি সম্মানজনক পরিসমাপ্তির বার্তাও দিতে চাইছেন।

একজন মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক বলেন,

“যখন কোনো সংঘাতকে ঐতিহাসিক নামে ডাকা শুরু হয়, সেটি অনেক সময় তার অবসান ঘনিয়ে আসার ইঙ্গিতও হতে পারে।”

নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার গাজায় পরিচালিত সামরিক অভিযানের নামে ও আচরণে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হয়েছে।
হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত ও লাখো বাস্তুচ্যুতের ঘটনাকে ঘিরে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ নামটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।