১৬তম মুসলিম হিসেবে নোবেল জিতলেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ওমর
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত অধ্যাপক ওমর এম. ইয়াগি এই বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন। ‘মেটাল অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্কস’ (MOFs) নামক যুগান্তকারী আণবিক স্থাপত্য উদ্ভাবনের জন্য তিনি জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়া এবং যুক্তরাজ্যের রিচার্ড রবসন-এর সঙ্গে যৌথভাবে এই সম্মাননা অর্জন করেন। এর মাধ্যমে তিনি হলেন ইতিহাসে ১৬তম মুসলিম নোবেল পুরস্কার বিজয়ী।
রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) এই ঘোষণা দেয়।

এই তিন বিজ্ঞানী এমন এক নতুন ধরনের ছিদ্রযুক্ত আণবিক কাঠামো তৈরি করেছেন, যার মধ্য দিয়ে গ্যাস ও রাসায়নিক পদার্থ সহজে প্রবাহিত হতে পারে। এই উদ্ভাবন পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এর ব্যবহারিক ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে:
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
- জলসংকট নিরসন: মরুভূমির বাতাস থেকে দক্ষতার সঙ্গে পানি আহরণ।
- জলবায়ু পরিবর্তন: বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ধারণ (শোষণ)।
- পরিবেশ সুরক্ষা: বিষাক্ত গ্যাস সংরক্ষণ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।
ওমর মওয়ানেস ইয়াগির জন্ম ১৯৬৫ সালে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে। তার পরিবার ছিল ফিলিস্তিনি শরণার্থী। শৈশবে এক ঘরে অনেক ভাইবোন গাদাগাদি করে থাকতেন, যেখানে বিশুদ্ধ পানি বা বিদ্যুতের সুবিধা ছিল না। এই কঠিন জীবনই তাকে জলসংকট নিয়ে গবেষণার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাবার পরামর্শে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তিনি হাডসন ভ্যালি কমিউনিটি কলেজ থেকে শুরু করে ইউনিভার্সিটি অ্যাট অ্যালবানি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় থেকে পিএইচডি লাভ করেন। এরপর তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলেতে জেমস ও নেলজে ট্রেটার প্রফেসর অব কেমিস্ট্রি পদে কর্মরত।
নোবেল জেতার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় ইয়াগি বলেন, “আমার বাবা-মা খুব একটা পড়তে বা লিখতে পারতেন না। এটা কঠিন একটা যাত্রা ছিল, বিজ্ঞানই এটা করে দেখানোর সুযোগ দিয়েছে।”
নোবেল পাওয়ার আগেই ওমর ইয়াগি তার গবেষণার জন্য একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। ২০২১ সালে সৌদি আরবের রাজার রিয়াল ডিক্রি অনুযায়ী তিনি সৌদি নাগরিকত্বও পান।
ওমর এম. ইয়াগি’র এই অর্জনসহ এ পর্যন্ত মোট ১৬ জন মুসলিম ব্যক্তি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য মুসলিম নোবেল বিজয়ীরা হলেন:
- শান্তি: আনওয়ার সাদাত, ইয়াসির আরাফাত, শিরিন এবাদি, মোহাম্মদ ইলবারাদেই, মুহাম্মদ ইউনূস, তাওয়াক্কুল করমান, মালালা ইউসুফজাই ও নার্গেস মোহাম্মাদি।
- রসায়ন: আবদুস সালাম, আহমেদ জেওয়াইল, আজিজ সানকার, মৌঙ্গি বাওয়েন্দি এবং ওমর এম ইয়াগি।
- সাহিত্য: নাগিব মাহফুজ, ওরহান পামুক এবং আবদুলরাজাক গুরনাহ।

