কাতারে ইসরায়েলের হামলায় অসন্তুষ্ট ট্রাম্প
ইসরায়েল মঙ্গলবার কাতারে অবস্থানরত হামাসের রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষ আরও তীব্র করার ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র এই হামলাকে ‘একতরফা আক্রমণ’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাৎক্ষণিক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইসরায়েল হামাসের রাজনৈতিক শাখাকে লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে কাতার তা ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটানোর অভিযোগ তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন,
“আমি এই ঘটনার প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট। আমরা চাই জিম্মিরা মুক্তি পাক, কিন্তু এই হামলা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।”
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, হামাসকে টার্গেট করা হতে পারে, কিন্তু কাতারকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করা ‘সঠিক নয়’, কারণ সেখানে হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয় রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ এটি।
সৌদি আরব, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা জানিয়েছেন, এই ধরণের হামলা গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে বিপন্ন করতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এ ঘটনা ট্রাম্পের দুই বছর ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের অবসান এবং যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাকে ব্যাপক আঘাত করেছে।
হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েলের এই বিমান হামলায় তাদের পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছে, যার মধ্যে গাজার নির্বাসিত নেতা ও প্রধান আলোচক খালিল আল-হায়্যার ছেলে রয়েছেন। হামাসের দাবি, এই হামলা তাদের আলোচনা দলকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ছিল।
কাতারে অবস্থিত আল-উদেইদ এয়ার বেস যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটিগুলোর একটি। কাতার গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনা প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে, তবে এখন এই আলোচনা জটিল হয়ে পড়েছে।
হামলার পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা সতর্কবার্তা পেয়েছিল, এমনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানিয়েছেন। তবে ইসরায়েল ওই তথ্য যুক্তরাষ্ট্রকে জানায় কি না তা স্পষ্ট করেননি তিনি।


