উত্তরের ঈদযাত্রায় গলার কাঁটা এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর ১৩ কি.মি. সড়ক

দেশজুড়ে
উত্তরের ঈদযাত্রায় গলার কাঁটা এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর ১৩ কি.মি. সড়ক
নিউজ ডেস্ক
১১ মার্চ ২০২৬

ঢাকা–টাঙ্গাইল–যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়কে এখনো উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। সামনে ঈদুল ফিতরকে ঘিরে এ অংশে যানজট ও ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন চালক ও যাত্রীরা।

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একমাত্র সরাসরি সড়ক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ঢাকা–টাঙ্গাইল–যমুনা সেতু মহাসড়কটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। টাঙ্গাইল জেলার মধ্য দিয়ে মহাসড়কের প্রায় ৬৫ কিলোমিটার অংশ রয়েছে। প্রতি বছর ঈদের সময় এই সড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের লাখো মানুষ যাতায়াত করে। ফলে অন্যান্য সময়ের তুলনায় যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায় এবং প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

মহাসড়কটি দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের অন্তত ২৩ জেলার যানবাহন চলাচল করে। চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত অংশে চার লেন থাকলেও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়ক এখনো দুই লেন হওয়ায় সেটিই প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

জানা গেছে, সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন কাজ ২০২১ সালের ডিসেম্বরে টেন্ডারের মাধ্যমে পায় আব্দুল মোনেম লিমিটেড। প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। তিন বছর পার হলেও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বাসচালক রমিজ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করছে। তবে ঈদের সময় গাড়ির চাপ বেড়ে গেলে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত অংশে যানজট তৈরি হয়। এতে চালক ও যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তিনি আরও বলেন, চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেন থাকলেও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল করায় সমস্যা বাড়ে।

আরেক বাসচালক আকবর হোসেন জানান, ঈদের সময় মহাসড়কে গাড়ির চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে যাত্রী ওঠানামা এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কারণেও যানজট সৃষ্টি হয়। এছাড়া এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সড়ক দুই লেন হওয়ায় সমস্যা আরও বাড়ে।

বাসযাত্রী মানিক মিয়া বলেন, ঈদের সময় মহাসড়কে স্বাভাবিকভাবেই যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। তার ওপর সড়কের উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল বলেন, এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত মহাসড়কের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সড়কের ব্রিজ ও কালভার্টের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আন্ডারপাস, ফ্লাইওভার ও সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ঈদের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি যানবাহন চলাচল করায় অনেক সময় যানজট তৈরি হয়। তবে ঈদের সময় চার লেনের সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেতুর দুই প্রান্তে নয়টি করে টোল বুথ চালু থাকবে এবং মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা দুটি বুথ রাখা হবে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দ্রুত সরাতে অতিরিক্ত রেকার আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জ অংশে ইতোমধ্যে ছয় লেন এবং টাঙ্গাইল অংশে চার লেন সড়ক রয়েছে। তবে যমুনা সেতুর প্রস্থ তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক সময় যানজট সৃষ্টি হয়।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, ঈদের পাঁচ দিন আগে থেকে মহাসড়কে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। যমুনা সেতু পর্যন্ত মহাসড়কের ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে সেখানে তিন শিফটে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ সদস্যরা।

তিনি বলেন, মহাসড়কে মোটরসাইকেল টহল, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দ্রুত সরাতে রেকার এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে।