নামাজরত ফিলিস্তিনি যুবককে গাড়িচাপা দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল
অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা এলাকার কাছে নামাজরত এক ফিলিস্তিনি যুবককে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়িচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) পশ্চিম তীরের দেইর জারির গ্রামে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন ইসরায়েলি নাগরিক এবং একই সঙ্গে রিজার্ভ সেনাসদস্য। ঘটনার সময় তিনি বেসামরিক পোশাকে ছিলেন।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, একই দিনে ওই গ্রামে একটি গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে এবং তদন্তে একই ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর অভিযুক্তের অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে এবং তার সামরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্তত দুইজন ফিলিস্তিনিকে গুলি করেছে।
এদিকে একই দিন পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় আরও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। হেবরনের দক্ষিণে মাসাফের ইয়াত্তায় সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের আটক ও নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। পরে ইব্রাহিম আল-আদ্রা ও আব্দ মাহমুদ আল-আদ্রা নামে দুই ভাইকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের গ্রেফতার করা হয়।
নাবলুসের বেইত ফুরিক এলাকায় সামরিক অভিযানের সময় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। একই অভিযানে টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের ফলে আরও কয়েকজন ফিলিস্তিনি শ্বাসকষ্টে ভোগেন।
দীর্ঘদিন ধরেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা চলমান রয়েছে। গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এসব সহিংসতা আরও বেড়েছে। ফিলিস্তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে পশ্চিম তীরে অন্তত ৮ হাজার গাছ ধ্বংস করা হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতি আনুমানিক ৭০ লাখ মার্কিন ডলার।
পরিসংখ্যান বলছে, গত দুই বছরে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২১৭ জন শিশু।


