ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারীসহ ৭ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
জাতীয় ও জননিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারী এবং আরও সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় হোয়াইট হাউস থেকে গতকাল দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্ক্রিনিং, তথ্য আদান-প্রদান ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো হলো— বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান, সিয়েরা লিওন, লাওস এবং সিরিয়া। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারীরাও এ নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ১৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত করে। ওই তালিকায় ছিল আফগানিস্তান, মিয়ানমার, কিউবা, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, ইয়েমেনসহ একাধিক দেশ। পরবর্তীতে গত ৪ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোম জানান, নিষেধাজ্ঞার তালিকা আরও বাড়িয়ে অন্তত ৩২টি দেশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন, যদিও তখন অতিরিক্ত দেশগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি সমুদ্রসৈকতে বন্দুক হামলায় ১৫ জন ইহুদি নিহত হওয়ার ঘটনার পর ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল।
তবে সিরিয়ার নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত কিছুটা বিস্ময় তৈরি করেছে। কারণ এর কিছুদিন আগেই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ শারা হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই সফরের আগে শারার বিরুদ্ধে থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
তবে সম্প্রতি সিরিয়ায় ইসলামপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন দোভাষী নিহত হওয়ার ঘটনা প্রশাসনের অবস্থান পরিবর্তনে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত শনিবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই হামলাকে ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেন এবং কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেন।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে থাকা সিরিয়ায় এখনো কার্যকর কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও নাগরিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। ফলে দেশটির পাসপোর্ট ও নাগরিক নথির নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।


