ধ্বংসস্তূপের মাঝেও জীবনের জয়গান: গাজায় ৫৪ দম্পতির গণবিবাহ

ধ্বংসস্তূপের মাঝেও জীবনের জয়গান: গাজায় ৫৪ দম্পতির গণবিবাহ
নিউজ ডেস্ক
৩ ডিসেম্বর ২০২৫

গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর খান ইউনিসে মঙ্গলবার ফুটে উঠল এক ভিন্নরকম দৃশ্য—জীর্ণ ভবন, ভাঙা কংক্রিট আর ধ্বংসস্তূপের মাঝেই হাত ধরে হেঁটে চলেছেন নবদম্পতিরা। যুদ্ধের ক্ষতচিহ্নকে পেছনে ফেলে তারা উদযাপন করেছেন নতুন জীবনের সূচনা।

এই গণবিবাহে অংশ নেন ৫৪ দম্পতি, যেখানে কনেরা পরেছিলেন লাল ফিতা-সজ্জিত ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি পোশাক এবং বররা কালো স্যুট ও টাই। ধ্বংসস্তূপে বিছানো লাল কার্পেট ধরে ঢাক-ঢোলের তালে উঠেছেন অস্থায়ী মঞ্চে। কারও হাতে ছিল ফিলিস্তিনি পতাকা, কারও হাতে ফুলের তোড়া—যা যুদ্ধের মাঝেও তাদের স্থিতিশীল আশা ও স্বপ্নের প্রতীক।

বর কারাম মুসায়েদ বললেন, “এমন এক সুখের মুহূর্তের প্রয়োজন ছিল আমাদের। যা আমাদের হৃদয়কে আবার জীবন্ত করে তুলবে।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

শহরের স্কয়ারজুড়ে ছিল জনতার ভিড়। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ আবার ঝুঁকি নিয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের ছাদে উঠে এই অনন্য অনুষ্ঠান দেখছিলেন। দুই বছরের লাগাতার যুদ্ধ, ক্ষুধা আর মানবিক বিপর্যয়ের পর এই গণবিবাহ তাদের জন্য ছিল এক নতুন প্রেরণা।

আরেক বর হিকমত উসামা বলেন,
“যুদ্ধ আর ধ্বংসের পর আবার আনন্দে ফিরতে পারা—এ এক বর্ণনাতীত অনুভূতি। আল্লাহর রহমতে সামনে ভালো দিন আসবে বলে আশা করছি।”

ইভেন্টটির আয়োজন করে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক মানবিক সংগঠন আল-ফারিস আল-শাহিম ফাউন্ডেশন। দীর্ঘদিন ধরে গাজায় ত্রাণসহায়তা দিয়ে আসা সংগঠনটি বলেছে, তারাই ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংসস্তূপের পাশের স্কয়ারটিকে বেছে নিয়েছে।

সংগঠনের গণমাধ্যম কর্মকর্তা শরিফ আল-নাইরাব বলেন,
“আমরা বার্তা দিতে চেয়েছি—ধ্বংসের ভেতরেও গাজার মানুষ আনন্দের পোশাক আবার পরবে। গাজা আবার উঠে দাঁড়াবে।”

১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল–হামাস যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজায় জীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। যদিও যুদ্ধবিরতির মাঝেও ইসরায়েলের বেশ কিছু হামলায় প্রাণহানি ঘটেছে। হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৬০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

গাজায় ধ্বংসের ছায়া এখনো ঘন, কিন্তু খান ইউনিসের এই গণবিবাহ প্রমাণ করেছে—মানুষের স্বপ্ন, ভালোবাসা আর জীবনের উদযাপনকে কোনো যুদ্ধই থামিয়ে রাখতে পারে না।

সূত্র: এএফপি