ইসরায়েলে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সন্দেহের তীর হুথিদের দিকে
ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশের আগে প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
খবরটি প্রথম প্রকাশ করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
যদিও সরাসরি কেউ দায় স্বীকার করেনি, তবে ধারণা করা হচ্ছে—ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাই এই হামলার পেছনে রয়েছে। কারণ গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা মিত্রদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে এই গোষ্ঠী।
উল্লেখ্য, উত্তর ইয়েমেনের বেশিরভাগ অঞ্চল বর্তমানে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ হামলার পর হুথিদের রাজনৈতিক পরিষদের মুখপাত্র মোহাম্মদ আল বুখাইতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন— “গাজায় যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত লোহিত সাগরে হামলা চলবে।”
তিনি আরও বলেন,
“আমাদের ওপর চালানো হামলার জবাব আমরা দেবো, উত্তেজনার জবাব উত্তেজনাতেই দেওয়া হবে। গাজায় গণহত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামছি না।”
এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইয়েমেনে অন্তত ৩০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। ভূমি ও আকাশপথে পরিচালিত ওই অভিযানে হুথি নিয়ন্ত্রিত সামরিক স্থাপনা ও রাডার টার্গেট করা হয়।
এই হামলাকে হুথিরা ‘নিপীড়নমূলক ও উসকানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে এর কড়া প্রতিক্রিয়া দেয়।
গত কয়েক মাসে হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ ও পশ্চিমা যুদ্ধজাহাজে একাধিক হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করছে, এসব হামলা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে চালানো হচ্ছে। এর জবাবে পশ্চিমা জোট একাধিকবার ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যে বহুমাত্রিক যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, ইয়েমেন থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সেই জটিলতাকেই আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে মত আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের। একদিকে হামলা, অন্যদিকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া—চাপ বাড়ছে বিশ্ব কূটনৈতিক অঙ্গনেও।


