যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েল বিরোধী অবস্থানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সবগুলো দেশ

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েল বিরোধী অবস্থানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সবগুলো দেশ
নিউজ ডেস্ক
২৮ আগস্ট ২০২৫

গাজায় চলমান দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতিকে ‘মানবসৃষ্ট’ বলে উল্লেখ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৪টি দেশ সরাসরি ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। বুধবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়াসহ অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্র তেলআবিবের নীতিকে শিশুদের জন্য ‘মারাত্মক হুমকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র এ আলোচনায় বরাবরের মতোই ইসরায়েলের পক্ষ নিয়েছে।

বৈঠকে আলজেরিয়ার প্রতিনিধি গাজার শিশুহত্যা ও দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির করুণ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি সাংবাদিক মরিয়ম আবু দাগ্গার ১৩ বছরের ছেলের জন্য লেখা চিঠি পাঠ করেন, যিনি ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও, অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ছবি উপস্থাপন করা হলে, বৈঠকে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

তবে আলজেরিয়ার এই তথ্যকে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ দাবি করে ইসরায়েলের প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন বলেন, “এই শিশুগুলোর মৃত্যু অপুষ্টির কারণে নয়, বরং অন্যান্য রোগের কারণে হয়েছে। দয়া করে তথ্য যাচাই না করে ভুল বার্তা দেবেন না।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

আলজেরিয়ার প্রতিনিধি ওমর বেন্ডজামা পাল্টা জবাবে বলেন, “জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিবেদন ও আইপিসি (Integrated Food Security Phase Classification) এর তথ্য উপাত্তেই এসব মৃত্যুর বিশ্লেষণ রয়েছে। আমাদের বক্তব্য গঠন করা হয়েছে সেসব নির্ভরযোগ্য উৎসের ওপর ভিত্তি করে।”

এদিন একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেয়। মার্কিন প্রতিনিধি ডরোথি শিয়া বলেন, “গাজায় মানবিক সংকট অবশ্যই রয়েছে এবং তা মেটানো জরুরি। কিন্তু IPC-এর প্রতিবেদনে কিছু ভুল ব্যাখ্যা থাকতে পারে।” তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র গাজায় ত্রাণ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।”

ব্রিটিশ প্রতিনিধি বারবারা ওডওয়ার্ড বলেন, “গাজার সীমান্তে খাদ্যবাহী ট্রাক অপেক্ষা করছে, কিন্তু শিশুদের মৃত্যু থামছে না। এটি আধুনিক ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।” ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া, মেক্সিকোসহ অন্যান্য সদস্যও গাজায় তাত্ক্ষণিক ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছেন।

বৈঠকে একাধিক দেশের প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ‘ক্ষুধাকে অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তারা বলেন, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা না গেলে গাজায় আরও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।