কাশ্মীরে ২১৫টি ইসলামিক স্কুল দখলে নিল মোদি সরকার

কাশ্মীরে ২১৫টি ইসলামিক স্কুল দখলে নিল মোদি সরকার
নিউজ ডেস্ক
২৩ আগস্ট ২০২৫

ভারত-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের শিক্ষা খাতে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। জামায়াত-ই-ইসলামী (জেইআই) ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফালাহ-ই-আম ট্রাস্ট (FAT) পরিচালিত ২১৫টি স্কুল সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, কাশ্মীর উপত্যকার ১০টি জেলার স্কুলগুলোর বেশিরভাগই দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত ছিল। সরকারিভাবে এসব স্কুল দখলের কারণ হিসেবে গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও প্রশাসনিক মেয়াদ শেষ হওয়ার যুক্তি দেখানো হয়েছে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে, কাশ্মীরের স্কুল শিক্ষা বিভাগের সচিব রাম নিবাস পাসওয়ান এক আদেশে স্কুলগুলো জেলা প্রশাসকদের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদেশে বলা হয়েছে, যাচাই-বাছাই শেষে নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

২০১৯ সালে জামায়াত-ই-ইসলামিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকেই FAT-এর অধীনে থাকা স্কুলগুলো নজরদারিতে ছিল। ২০২৪ সালে নিষেধাজ্ঞা নবায়নের পর পরিস্থিতি আরও কঠোর হয়। ২০২২ সাল থেকে এসব স্কুলে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল, ফলে শিক্ষার মান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল।

জব্দ করা স্কুলগুলোর জেলার ভিত্তিতে সংখ্যা:
  1. বারামুল্লা: ৫৩টি

  2. ইসলামাবাদ (অনন্তনাগ): ৩৭টি

  3. কুপওয়ারা: ৩৬টি

  4. পুলওয়ামা: ২২টি

  5. বুদগাম: ২০টি

  6. কুলগাম: ১৬টি

  7. শোপিয়ন: ১৫টি

  8. বান্দিপোরা ও গান্দেরবাল: ৬টি করে

  9. শ্রীনগর: ৪টি

হঠাৎ করে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী সবাই আতঙ্কিত। স্থানীয়রা বলছেন, এতে করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিঘ্নিত হবে এবং সহস্রাধিক শিশু ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবলমাত্র নিরাপত্তার নামে কাশ্মীরের মুসলিম-চালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কোণঠাসা করার একটি রাজনৈতিক কৌশল।

মানবাধিকার কর্মীরা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ভারত সরকারের এই পদক্ষেপের বৈধতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অনেকে এটিকে ধর্মীয় বৈষম্য ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ বলেও অভিহিত করেছেন।