বাংলাদেশে পুশ ইনসহ ভিনরাজ্যে হেনস্তার শিকারদের ফেরাবে পশ্চিমবঙ্গ
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালি শ্রমিকদের ওপর পরিকল্পিত নির্যাতনের অভিযোগ এনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন নতুন পুনর্বাসন প্রকল্প— ‘শ্রমশ্রী’। ভিনরাজ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে রাজ্যে ফিরে আসা শ্রমিকদের জন্য মাসিক ভাতা, এককালীন অর্থ সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং সরকারি পরিষেবার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বহু জায়গায় বাংলা ভাষাভাষীদের সন্দেহজনকভাবে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে, পুশ ইন করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনি লড়াই করতে হয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, ইতিমধ্যে ২৭৩০টি পরিবারকে ভিনরাজ্য থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা প্রায় ১০ হাজার মানুষের সমান। এদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তায়ই এই ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প চালু করা হয়েছে।
‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পের মূল সুবিধাসমূহ:
-
প্রত্যেক ফিরে আসা শ্রমিককে এককালীন ৫০০০ টাকা সহায়তা।
-
পুনরায় কাজ না পাওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা ভাতা।
-
অদক্ষ শ্রমিকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন।
-
‘খাদ্যসাথী’ ও ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড-এর আওতায় খাদ্য ও চিকিৎসা সুবিধা।
-
কমিউনিটি সেন্টারে অস্থায়ী আবাসন ও তাদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে ভর্তি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, “ডাবল ইঞ্জিন সরকারগুলো বাংলা ভাষাকে অপরাধ হিসেবে দেখছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাঙালিদের টার্গেট করা হচ্ছে।” তিনি জানান, অন্ধ্রপ্রদেশ, হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থান ও অন্যান্য রাজ্যে এই হেনস্তা বারবার ঘটছে।
তিনি আরও জানান, রাজ্য সরকার ভুক্তভোগীদের জন্য আইনি সহায়তা থেকে শুরু করে, কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুবিধা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। “বাংলার মানুষকে অপমান করলে তা মেনে নেওয়া হবে না,” বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে অসত্য প্রচার করছেন।”
তবে বিরোধিতার মাঝেও মানবিক ও বাস্তবসম্মত এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর অনেকে।


