নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গাজা নীতি নিয়ে ইসরায়েলে ব্যাপক ধর্মঘট ও গণবিক্ষোভ

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গাজা নীতি নিয়ে ইসরায়েলে ব্যাপক ধর্মঘট ও গণবিক্ষোভ
নিউজ ডেস্ক
১৮ আগস্ট ২০২৫

গাজা যুদ্ধ অবসান এবং হামাসের হাতে জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে ইসরায়েলজুড়ে পালিত হয়েছে একদিনের সাধারণ ধর্মঘট। বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে রাজধানী তেলআবিবসহ দেশের প্রায় ৩০০টি এলাকা। রোববার অনুষ্ঠিত এই অভূতপূর্ব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন লাখো মানুষ। খবর বিবিসির।

তেলআবিবের ‘হোস্টেজ স্কয়ার’-এ আয়োজিত সমাবেশে অংশ নেন প্রায় ৫ লাখ মানুষ। ‘অক্টোবর কাউন্সিল’ নামের একটি নাগরিক সংগঠনের আহ্বানে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা হাতে ইসরায়েলি পতাকা এবং গাজায় জিম্মিদের ছবি বহন করেন।

বিক্ষোভকারীরা গাজার সামরিক অভিযান বন্ধ এবং জিম্মিদের দ্রুত মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোরালো দাবি জানান। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অবরোধ করে তারা স্লোগান দিতে থাকেন— “জিম্মিদের ফিরিয়ে আনো, যুদ্ধ থামাও।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিক্ষোভকারীদের একটি দল প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জেরুজালেমের বাসভবনের দিকে যাত্রা শুরু করলে নিরাপত্তা বাহিনী বাধা দেয়। সংঘর্ষের পর অন্তত ৪০ জনকে আটক করা হয়। একইসঙ্গে হাইফা, বিয়ারশেভা ও নাজারেথসহ অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর গাজায় যে যুদ্ধ শুরু হয়, তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, ৬১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন।

জাতিসংঘের মতে, গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ— অর্থাৎ ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অঞ্চলটিতে ভয়াবহ অপুষ্টি ও মানবিক সংকট বিরাজ করছে।

জাতিসংঘ এই যুদ্ধ পরিস্থিতিকে “মানবিক বিপর্যয়” বলে আখ্যা দিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জার্মানি সহ একাধিক মিত্র দেশও ইসরায়েলকে রাজনৈতিক সমঝোতার পথে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে এখনো বিক্ষোভ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজা যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা এবং জিম্মিদের মুক্তিতে ব্যর্থতা জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করেছে, যা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।