পাকিস্তানে বন্যা ও ভূমিধসে দুই শতাধিক মৃত্যু

পাকিস্তানে বন্যা ও ভূমিধসে দুই শতাধিক মৃত্যু
নিউজ ডেস্ক
১৬ আগস্ট ২০২৫

পাকিস্তানে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২০০ জনের বেশি মানুষ। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া অতিভারী বর্ষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বুনের, বাজাউর ও বাটগ্রাম জেলা। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও বসতবাড়িতে।

প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৭টি বাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত এবং ৩৮টির বেশি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশ সোয়াত জেলায় অবস্থিত। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সরবরাহের সময় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুজন পাইলটসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরেও ভূমিধ্বসে প্রাণ গেছে আরও আটজনের। কাশ্মীরের নীলম ও ঝিলম উপত্যকায় প্রায় ৫০০ পর্যটক আটকে আছেন বলে জানা গেছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে বুনের জেলা, যেখানে প্রবল মেঘভাঙা বৃষ্টির পর ভূমিধসে ধসে পড়েছে বহু ঘরবাড়ি। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধারের খবর। এর মধ্যে শুধু গাডেজি তহশিলেই মারা গেছেন ১২০ জন। চাঘারজাই তহশিলে একটি বাড়ি ধসে পড়ে এক পরিবারের ২২ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক কাশিফ কাইয়ুম জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে এবং হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম অঞ্চলে সহায়তা পৌঁছানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩০০ শিক্ষার্থীসহ ২,০৭১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুরো জেলায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

প্রদেশজুড়ে নিহতদের স্মরণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে খাইবার পাখতুনখোয়াকে ‘দুর্যোগ কবলিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।