সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি: ভারতের বিপক্ষে রায়

সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি: ভারতের বিপক্ষে রায়
নিউজ ডেস্ক
১২ আগস্ট ২০২৫

আন্তর্জাতিক সালিশ আদালত (Permanent Court of Arbitration – PCA) ভারতের ওপর থেকে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সিন্ধু ও এর উপনদীতে পানিপ্রবাহে কোনো বাধা সৃষ্টি করা যাবে না, এবং নতুন কোনো বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে অবশ্যই চুক্তির মূল কাঠামো অনুসরণ করতে হবে।

এই রায়ের পেছনে পটভূমি তৈরি হয় এ বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর। ঘটনায় ২৫ জন ভারতীয় এবং ১ জন নেপালি পর্যটক প্রাণ হারান। হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরভিত্তিক গোষ্ঠী ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’। এর জেরে ভারত একতরফাভাবে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে, যার ফলে পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর পানিপ্রবাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

পাকিস্তান বিষয়টি আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতের কাছে তোলে। রায়ে আদালত জানায়, ভারত যদি বাঁধ নির্মাণ করতে চায়, তবে তা হতে হবে সম্পূর্ণভাবে চুক্তির শর্ত মেনে এবং কোনোভাবেই পাকিস্তানের পানি অধিকার বিঘ্নিত না করে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

রায়ের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে পাকিস্তান বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক ন্যায়ের প্রতি আস্থা পুনঃস্থাপন করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আদালতের নির্দেশ স্পষ্ট — ভারতের উচিত সিন্ধু নদীর অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং যেকোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে চুক্তির বিধি মানা।”

ভারত এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তান সিন্ধু পানি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এতে নদীর পানি ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারের নির্দিষ্ট নিয়মাবলি নির্ধারণ করা হয়।

  1. পূর্বাঞ্চলীয় নদী (ইরাবতী, বিপাশা, শতদ্রু): অধিকাংশ পানি ব্যবহারের অধিকার পায় ভারত।

  2. পশ্চিমাঞ্চলীয় নদী (সিন্ধু, ঝিলাম, চেনাব): অধিকাংশ পানি ব্যবহারের অধিকার পায় পাকিস্তান।

চুক্তিতে কোনো পক্ষ unilateral বা একতরফাভাবে তা স্থগিত কিংবা বাতিল করতে পারে না। বিরোধ মীমাংসার জন্য রয়েছে নির্ধারিত প্রক্রিয়া। পাকিস্তানের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি মূলত এই তিন নদীর ওপর নির্ভরশীল, এবং দেশটির অন্যতম বৃহৎ সেচ ব্যবস্থাও এদের ঘিরেই গড়ে উঠেছে।