জাতিসংঘের বেশিরভাগ রিপোর্টই কেউ পড়ে না: গুতেরেস
জাতিসংঘ যুদ্ধে ৮০ বছর পূর্ণ করলেও, তীব্র অর্থনৈতিক ও কার্যকরী সংকটের মুখোমুখি। নিয়মিত বকেয়া চাঁদা না পরিশোধের কারণে গত সাত বছর ধরে তলানিতে নামছে বিশ্বের এই প্রধান আন্তর্জাতিক সংস্থা। সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করায়, সংস্থার কাজকর্ম প্রায় ধসে পড়ার কুড়ান্ত দিকে রয়েছে।
মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গত মার্চ মাসে ‘ইউএন৮০ টাস্কফোর্স’ চালু করেছেন, যা এই সংকট মোকাবেলায় সংস্কারের পথে অগ্রসর হবে।
এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বছর জাতিসংঘে ২৭ হাজারের বেশি সভা হয়েছে, যেখানে অংশ নেয় ২৪০টি আলাদা সংস্থা ও কমিটি। এ সময় তৈরি হয়েছে প্রায় ১,১০০টি প্রতিবেদন, যা ১৯৯০ সালের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। এই অতিরিক্ত পরিমাণ কাজ কর্মী ও সংস্থার সক্ষমতার বাইরে যাচ্ছে।
গুতেরেস বলেন, “এতগুলো রিপোর্ট আর সভার চাপ আমাদেরকে ক্লান্তির অতীতের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ প্রতিবেদনই পড়ে শেষ হয় না, মাত্র পাঁচ শতাংশের বেশি ডাউনলোড ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে অনেক প্রতিবেদন এমন, যা এক হাজারেরও কম ডাউনলোড পায়।”
সংস্থার বিভিন্ন প্রধান পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের হাজার হাজার ‘ম্যান্ডেট’ বাস্তবায়নে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। অথচ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বকেয়া থাকায় বাজেট সংকট ক্রমশ প্রকট হচ্ছে।
মহাসচিবের প্রস্তাব, আগামীতে সভা ও প্রতিবেদনের সংখ্যা কমিয়ে কার্যকর সংস্কার আনা প্রয়োজন, যাতে ম্যান্ডেটগুলো বাস্তবায়ন যোগ্য হয়।
জাতিসংঘের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সংকট পিছু হটানোর ডাক দিচ্ছেন বিশ্ব নেতারা, নইলে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।


