ওজন কমাতে সকালের নাস্তায় দই, চিয়া সিডস ও ওটস কতটা কার্যকর?
ওজন কমানোর জন্য দিনের শুরুতে পুষ্টিকর ও পরিমিত খাবার খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সকালের নাস্তায় দই, চিয়া সিডস ও ওটস রাখতে পারেন। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই তিন খাবারের সমন্বয় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে।
ওটসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, বিশেষ করে বিটা-গ্লুকান। এটি হজমের প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর করে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয়। ফলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগা এবং অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।
অন্যদিকে, চিয়া সিডসে রয়েছে খাদ্যআঁশ, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি। পানির সংস্পর্শে এলে চিয়া সিডস ফুলে জেলির মতো আকার ধারণ করে, যা খাবারের পর তৃপ্তি বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখে।
দই এই নাস্তায় প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। বিশেষ করে চিনি ছাড়া টক দই বা গ্রিক ইয়োগার্ট খেলে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন পেতে পারে। এ ছাড়া দইয়ে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক।
যেভাবে তৈরি করবেন স্বাস্থ্যকর এই নাস্তা
একটি পাত্রে আধা কাপ ওটস, আধা কাপ চিনি ছাড়া টক দই এবং এক টেবিল চামচ চিয়া সিডস নিন। এর সঙ্গে সামান্য দুধ বা পানি মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিন। এরপর কয়েক ঘণ্টা অথবা সারা রাত ফ্রিজে রেখে সকালে খেতে পারেন।
স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বাড়াতে এর সঙ্গে পরিমাণমতো আপেল, পেয়ারা কিংবা কয়েক টুকরো বেরি যোগ করতে পারেন।
ওজন কমাতে কতটা কার্যকর এই নাস্তা?
ওটস, চিয়া সিডস ও দইয়ে থাকা আঁশ ও প্রোটিন দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। ফলে দিনের অন্যান্য সময়ে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমতে পারে। তবে শুধু এই নাস্তা খেলেই ওজন কমবে, এমন ধারণা সঠিক নয়।
ওজন কমানোর মূল শর্ত হলো শরীরের দৈনিক ক্যালরির চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম ক্যালরি গ্রহণ করা। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটাচলা বা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাও জরুরি।
এ ক্ষেত্রে চিয়া সিডস ও ওটসের পরিমাণের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। পুষ্টিকর হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে শরীরে ক্যালরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।
তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকালের নাস্তায় দই, চিয়া সিডস ও ওটস রাখতে পারেন। দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা না করে নিয়মিত পরিমিত খাবার গ্রহণ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের চাবিকাঠি।


