পে-স্কেলের বাইরে ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য নতুন সুখবর

জাতীয়
পে-স্কেলের বাইরে ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য নতুন সুখবর
১১ জুলাই ২০২৬

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি বিবেচনায় ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুলভ মূল্যে রেশন সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে এ প্রস্তাবে অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি মিলেছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত জুন মাসে অর্থ বিভাগের সচিবকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিন মাস পর সংশ্লিষ্ট সচিবদের নিয়ে পর্যালোচনা সভায় এ উদ্যোগের অগ্রগতি উপস্থাপন করতে হবে। এছাড়া প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শাখায় পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সরকারের মতে, মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক সরকারি কর্মচারী আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন। এতে তাদের ব্যক্তিগত জীবন যেমন কঠিন হয়ে উঠছে, তেমনি দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। রেশন সুবিধা চালু হলে এই চাপ কমবে এবং কর্মদক্ষতা ও মনোযোগ বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এই প্রস্তাবটি প্রথম উত্থাপন করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে তিনি ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর সুপারিশ করেন। পরে বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপসচিব মো. মামুন জানান, ডিসি সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। রেশন সুবিধা চালু হলে তাদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পুরো কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো অনিয়ম না হয় এবং প্রকৃত উপকারভোগীরাই সুবিধা পান।

বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা সুলভ মূল্যে রেশন সুবিধা ভোগ করছেন।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১২তম গ্রেডের অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী, ক্যাশিয়ার, গুদামরক্ষক, অডিটর, জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন পদ এবং ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী, নৈশপ্রহরী, পিয়ন, মালী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো পদে কর্মরতরা এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি কর্মচারীরা রেশনসহ বিভিন্ন ভাতা চালুর দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। সে সময় খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমামও রেশন সুবিধা চালুর পক্ষে মত দিয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠান। এরপর থেকেই বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।