পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজির সাজা ৫ বছরের কারাদণ্ড

জাতীয়
পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজির সাজা ৫ বছরের কারাদণ্ড
নিউজ ডেস্ক
৭ জুলাই ২০২৬

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি, পরীক্ষার ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধ এবং নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। সংশোধিত আইনটি ১৯৮০ সালের ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) অ্যাক্ট’-কে যুগোপযোগী করে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলার বিধান যুক্ত করেছে।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, পরীক্ষার ডাটাবেজে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন, পরীক্ষার রেকর্ডে কারসাজি বা যেকোনো ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এ ছাড়া ‘অর্গানাইজড এক্সামিনেশন ক্রাইম’ নামে নতুন অপরাধের সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে লিখিত বা মৌখিক চুক্তি, প্রস্তাব বা সংঘবদ্ধভাবে নকল বা প্রতারণার সুযোগ সৃষ্টি করলেও একই ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

সংশোধিত আইনে পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র বা হলে প্রবেশ এবং সরকারি নির্দেশনা ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করাকেও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইনে পরীক্ষকদের জন্যও জবাবদিহির বিধান রাখা হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরপত্রে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দিলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষক সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারবেন। তবে শাস্তির আগে তৃতীয় একজন পরীক্ষকের মাধ্যমে নম্বরের অসংগতি নিশ্চিত করতে হবে।

পরীক্ষা পরিচালনায় যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও সেবাদাতা সংস্থার দায়ও নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান অপরাধে সহায়তা করলে বা যোগসাজশে জড়িত থাকলে অর্থদণ্ড, লাইসেন্স স্থগিত, কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি কিংবা কালো তালিকাভুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

নতুন আইনে তথ্যদাতা বা হুইসেলব্লোয়ারদের সুরক্ষার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। অপরাধসংক্রান্ত তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

এ ছাড়া কোনো শিশু এ আইনের অধীনে অপরাধে জড়িত হলে তার বিচার শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী হবে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে এসব অপরাধকে আমলযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে এবং মহানগরে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট ও মহানগরের বাইরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে এসব মামলার বিচার করবেন।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে অনলাইন ও ডিজিটাল মাধ্যমে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনটি সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।