অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

জাতীয়
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই
নিউজ ডেস্ক
৫ জুলাই ২০২৬

প্রখ্যাত লেখক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের পুত্রবধূ রাজিয়া রহমান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। তিনি ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৬ সালে একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেন এবং বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার আন্দোলন ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায়ও তিনি ছিলেন অন্যতম সক্রিয় ব্যক্তিত্ব।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ২০টিরও বেশি। তাঁর উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন, মুক্তিসংগ্রাম, কালের যাত্রার ধ্বনি, সাহিত্য চিন্তা, রাজনীতি দর্শন, সংস্কৃতির সহজ কথা, উনিশ শতকের মধ্যশ্রেণি ও বাংলা সাহিত্য, মানুষ ও তার পরিবেশ, সাহিত্য জিজ্ঞাসা, জাতীয়তাবাদ, আন্তর্জাতিকতাবাদ, বিশ্বায়ন ও ভবিষ্যৎ, বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ও উত্তরকাল এবং আধুনিকতাবাদ ও জীবনানন্দের জীবনোৎকণ্ঠা। এছাড়া তিনি বার্ট্রান্ড রাসেলের রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করেন।

তিনি সুন্দরম ও লোকায়ত নামে দুটি সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেন। পাশাপাশি ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং স্বদেশচিন্তাসহ একাধিক গ্রন্থ সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেন।

বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য, গবেষণা ও শিক্ষা অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।