ভিসা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী সংস্কার, ২০ বছর পর নতুন নীতি
বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করা; বিদেশি বিনিয়োগ ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা; পর্যটন খাতকে গতিশীল করা এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর উৎসাহিত করতে ২০ বছর পর হচ্ছে নতুন ভিসা নীতি। এর খসড়া পর্যালোচনায় অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার ১১তম বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
ভিসা নীতিতে যেসব পরিবর্তন
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ২০০৬ সালের পর এবার নতুন বাস্তবতা বিবেচনায় ভিসা নীতির খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় ৩৪ ধরনের ভিসা ক্যাটেগরি রাখা হয়েছে। যাতে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আগত বিদেশিদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও স্পষ্ট ও সহজ হয়। তবে নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকার কোনো ছাড় দিচ্ছে না। আগে যেসব দেশ ভিসা নীতিতে কালো তালিকাভুক্ত ছিল, নতুন নীতিতেও সেই অবস্থান বহাল রাখা হয়েছে।
যেসব লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন নীতি
এদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নতুন ভিসা নীতির প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান সহজ ও সুশৃঙ্খল করা; বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা; পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পকে উৎসাহিত করা; প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা; জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা; পারস্পরিক নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা করা; আধুনিক, সেবামুখী ও সময়োপযোগী অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গত ২০ বছরে বৈশ্বিক ভ্রমণ, বিনিয়োগ ও অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। ডিজিটাল ভিসা, দক্ষ কর্মী স্থানান্তর, চিকিৎসা ও শিক্ষা ভ্রমণ এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসার সম্প্রসারণের কারণে পুরোনো নীতিমালাকে যুগোপযোগী করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। নতুন নীতিমালা সেই বাস্তবতার প্রতিফলন হতে পারে।


