২৩০ বছর পর এক সেন্টের মুদ্রা উৎপাদন বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র
২৩শ শতাব্দীর শুরুতে ১৭৯৩ সালে চালু হওয়া এক সেন্ট মুদ্রা বা পেনি উৎপাদন বন্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১২ নভেম্বর) ফিলাডেলফিয়ার মিন্টে তৈরি হবে এই ঐতিহাসিক মুদ্রার শেষ ব্যাচ। দুই শতকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে মার্কিন অর্থ বিভাগ।
মার্কিন সরকারের বক্তব্য, এক সেন্ট মুদ্রা উৎপাদন বন্ধের ফলে প্রতি বছরে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান ইলেকট্রনিক লেনদেনের বিস্তার ও মুদ্রার বাস্তব চাহিদার তুলনায় বাজারে অতিরিক্ত পেনির উপস্থিতি।
মুদ্রা তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় চার সেন্ট, যা মূল্যের চারগুণ। এছাড়া, বর্তমানে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন পেনি বাজারে প্রচলিত রয়েছে। সরকারি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই মুদ্রার প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহার না করে পরিবারের ড্রয়ার বা পিগি ব্যাংকে জমা থাকে।
পেনি উৎপাদন বন্ধের পর ক্রেতাদের জন্য সামান্য মূল্যস্ফীতি দেখা দিতে পারে। রিচমন্ড ফেডের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাউন্ডিংয়ের কারণে ভোক্তাদের বছরে প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।
এর আগে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ইতিমধ্যেই তাদের স্বল্পমূল্যের মুদ্রা বাতিল করেছে। যুক্তরাজ্যও ২০২৪ সালে এক ও দুই পেনি মুদ্রা উৎপাদন বন্ধ করেছে।
মার্কিন অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, পেনি উৎপাদন বন্ধ হলেও বাজারে থাকা মুদ্রাগুলো ব্যবহারযোগ্য থাকবে। আগামী দিনগুলোতে পেনি লেনদেন ধীরে ধীরে কমে আসবে এবং সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি নতুন অভ্যাসের জন্ম দেবে।


