২৪ ঘণ্টা পর গাজায় ত্রাণের প্রবেশ থেকে বাধা তুলে নিলো ইসরায়েল

২৪ ঘণ্টা পর গাজায় ত্রাণের প্রবেশ থেকে বাধা তুলে নিলো ইসরায়েল
নিউজ ডেস্ক
২০ অক্টোবর ২০২৫

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৬ জন নিহত হওয়ার একদিন পর ইসরায়েল সরকার ফের ত্রাণ সরবরাহ চালুর অনুমতি দিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, সাময়িক স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং এখন আবার মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে পারবে গাজায়।

রোববার গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি ট্যাংকে হামাস যোদ্ধাদের রকেট হামলায় দুই সেনা নিহত হওয়ার পরই ইসরায়েল জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এরপর রাতেই চালানো হয় বিমান অভিযান।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাতভর ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো আকাশ হামলায় নারী ও শিশুসহ ২৬ জন নিহত হন। বিধ্বস্ত হয় অন্তত তিনটি আবাসিক ভবন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যে এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ইসরায়েলের দাবি, হামাসের একটি উপদলই ট্যাংক হামলায় জড়িত। তবে হামাসের সামরিক শাখা আল কাসাম ব্রিগেড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় কমিটি বা মূল নেতৃত্ব এমন কোনো হামলার নির্দেশ দেয়নি। গাজায় সক্রিয় ৪০টির বেশি ছোট-বড় গ্রুপের মধ্যে কেউ হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে জানায় সংগঠনটি।

ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমার উদ্যোগে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তা এখনও টিকে আছে। তবে গাজায় যা ঘটেছে, তা সতর্কভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। আমরা চাই যুদ্ধবিরতি থাকুক, শান্তিপূর্ণভাবেই এই সংকট মোকাবিলা হোক।”

ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিফ উইটকফ বর্তমানে ইসরায়েল সফরে রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি শান্ত করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন নেতানিয়াহুর সঙ্গে।

ওয়াশিংটনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেন, “গাজায় এখনও ৪০টিরও বেশি সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। আমাদের কাছে তথ্য আছে, এদের বড় অংশই যুদ্ধবিরতি মানেনি। এদের নিয়ন্ত্রণ না করলে অস্ত্রবিরতির বাস্তবায়ন অসম্ভব হয়ে উঠবে।”

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থা পুনরায় আহ্বান জানিয়েছে—দুই পক্ষ যেন সংযম দেখায় এবং মানবিক সহায়তার প্রবেশে বাধা না দেয়।