নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সম্মেলনের পাশে ‘বিপজ্জনক নজরদারি নেটওয়ার্ক’ জব্দ, তদন্তে সিক্রেট সার্ভিস

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সম্মেলনের পাশে ‘বিপজ্জনক নজরদারি নেটওয়ার্ক’ জব্দ, তদন্তে সিক্রেট সার্ভিস
নিউজ ডেস্ক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশন চলাকালে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের পাশ থেকে বিপুল পরিমাণ নজরদারি যন্ত্রপাতি ও সাইবার সরঞ্জাম জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস। উদ্ধার হওয়া এসব ডিভাইস ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দের যোগাযোগে হস্তক্ষেপের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিক্রেট সার্ভিসের দাবি, উদ্ধার করা হয়েছে ১ লাখের বেশি সিমকার্ড ও প্রায় ৩০০টি সার্ভার। এই সরঞ্জামগুলোর মাধ্যমে প্রতি মিনিটে ৩০ মিলিয়নের বেশি মেসেজ পাঠানো সম্ভব ছিল বলে ধারণা করছে গোয়েন্দারা।

নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে সিক্রেট সার্ভিসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা এত বড় পরিসরের নজরদারি নেটওয়ার্ক এর আগে কখনো দেখিনি। এটি নিঃসন্দেহে সুপরিকল্পিত ও টেকনিক্যালি উন্নত এক ব্যবস্থা।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সার্ভার ও সিমকার্ড ছাড়াও উদ্ধার করা হয়েছে অবৈধ অস্ত্র, কোকেইন ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই নজরদারি পরিকল্পনার সঙ্গে কোনো রাষ্ট্রীয় শক্তি জড়িত থাকতে পারে। সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক জেমস এ লুইস জানিয়েছেন, “এ ধরনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কেবল রাশিয়া, চীন কিংবা ইসরায়েলের মতো রাষ্ট্রের রয়েছে। তবে এখনই কাউকে দায়ী করা ঠিক হবে না।”

সিক্রেট সার্ভিসের নিউ ইয়র্ক ফিল্ড অফিস প্রধান ম্যাট ম্যাককুল বলেছেন, “আমরা এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছি। তদন্তের আওতায় দেখা হচ্ছে, এদের উদ্দেশ্য ছিল কি না রাষ্ট্রপ্রধানদের যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটানো বা জাতিসংঘের সম্মেলনে প্রভাব ফেলা।”

এদিকে জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নিতে বাংলাদেশসহ ১০০টির বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বর্তমানে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। এ প্রেক্ষাপটে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করছে। এনএসএ সূত্র বলছে, প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও নেওয়া হবে।