পিআর নির্বাচন পদ্ধতিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিএনপির স্পষ্ট আপত্তি
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতিতে আয়োজনের আলোচনা ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভাজন তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি দল এ পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নিলেও বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো এটিকে ‘নতুন ধরনের ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছে।
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল জাতীয় নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে আয়োজনের দাবি জানায়। দাবি উঠতেই এ নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, “পিআর পদ্ধতির কথা নতুন কিছু নয়। তবে এই পদ্ধতির নামে যদি কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়, তাহলে বলা যায় তারা গণতন্ত্রের মূল চেতনায় বিশ্বাস করে না।”
তিনি আরও বলেন, “এই দেশের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে ছাত্রসমাজ, যাদের অধিকাংশ বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত। তাদের ত্যাগ ভুলে কেউ যদি একক আধিপত্য কায়েম করতে চায়, তা হবে চরম আত্মঘাতী।”
এদিকে, দলের যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি মন্তব্য করেন, “সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির কথা বলা হচ্ছে কিন্তু মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ভিন্ন—বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করে ক্ষমতা ভাগাভাগির নামে ফ্যাসিবাদী চক্রকে স্থায়ী করা।”
বিএনপির আরেক নেতা ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, “যেসব দল এই পদ্ধতির পক্ষে কথা বলছে, তাদের অনেকেরই ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার সক্ষমতা নেই। এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের পেছনে রাজনৈতিক অচলাবস্থার পরিকল্পনা রয়েছে।”
দলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সহ-সম্পাদক রুমিন ফারহানা বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নতুন পদ্ধতির কথা একসাথে উঠে আসায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। জাতীয় ঐক্যের বদলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।”
এদিকে, চীন সফর শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “বিএনপি চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়। তিস্তা চুক্তি এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে চীনের ভূমিকা ইতিবাচক বলেই আমরা আশা করি।”
তিনি আরও জানান, “বিএনপি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে। নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে যেকোনো ধরনের মনগড়া পরিবর্তন গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।”
এছাড়া দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এ বিষয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পিআর পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক রাজনৈতিক মাঠে নতুন উত্তাপ ছড়ালেও, এটি বাস্তবায়নে সাংবিধানিক ও কারিগরি প্রস্তুতি কতটা সম্পন্ন তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। তবে একমত হওয়া ছাড়া পদ্ধতিগত পরিবর্তন রাজনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে—এ আশঙ্কা অমূলক নয়।


