প্রধানমন্ত্রীর ‘লাল টেলিফোন’ সংযোগ বিচ্ছিন্নের রহস্য অমীমাংসিত, তদন্তে একাধিক সংস্থা

জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীর ‘লাল টেলিফোন’ সংযোগ বিচ্ছিন্নের রহস্য অমীমাংসিত, তদন্তে একাধিক সংস্থা
নিউজ ডেস্ক
৪ জুন ২০২৬

প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ ‘লাল টেলিফোন’ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলো।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তদন্তে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির পর সোমবার সচিবালয়ে কার্যক্রম শুরু হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দেখতে পান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগ অচল হয়ে আছে। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় সংযোগ পুনরায় সচল করে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিটিসিএল সূত্র জানিয়েছে, এই বিশেষ টেলিফোন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে সরাসরি ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করতে পারেন। ফলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, সচিবালয়ের পুরোনো ১ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত স্থাপিত কপার কেবল কেটে ফেলার কারণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের ছাদে স্থাপিত ওই কপার কেবল দুর্বৃত্তরা কেটে ফেলেছিল। তবে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ কাজ করেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার পাশাপাশি পুলিশও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারাও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ঘটনার পেছনের কারণ এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।