জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে পূর্ণ আস্থা, আওয়ামী লীগের অভিযোগ নাকচ

জাতীয়
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে পূর্ণ আস্থা, আওয়ামী লীগের অভিযোগ নাকচ
নিউজ ডেস্ক
৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য ও উপসংহারের প্রতি পূর্ণ আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নিহতের সংখ্যা নিয়ে আওয়ামী লীগের উত্থাপিত প্রশ্নও নাকচ করেছে সংস্থাটি।

সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে সন্দেহ করার কোনো কারণ তারা দেখছেন না।

ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দুজারিক বলেন, “প্রতিবেদনটি আমাদের মানবাধিকার দপ্তরের সহকর্মীরা প্রস্তুত করেছেন। এটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো কারণ আমরা দেখি না।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এর আগে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে প্রকাশিত জাতিসংঘের তথ্য-অনুসন্ধান প্রতিবেদনে কিছু তথ্য সঠিক নয়। বিশেষ করে নিহতের সংখ্যা নিয়ে দলটি আপত্তি জানায়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত চলা আন্দোলন ও সহিংসতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হন। আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতিতে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।

ব্রিফিংয়ে আরও উল্লেখ করা হয়, ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে প্রতিবেদনের কিছু তথ্য নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে জাতিসংঘের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানান দুজারিক।

তিনি বলেন, মানবাধিকার দপ্তরের তদন্ত ও প্রতিবেদনের ওপর জাতিসংঘের আস্থা রয়েছে এবং এ বিষয়ে নতুন করে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

এদিকে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের মুখপাত্র বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্পদ অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হওয়া একটি গুরুতর বৈশ্বিক সমস্যা।

তিনি বলেন, “এ ধরনের অর্থপাচার উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। আমরা আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে উৎসাহিত করি, যাতে জনগণের অর্থ আবার জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।”

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত জাতিসংঘের প্রতিবেদনটি বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় প্রতিবেদনটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।