৪ দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য খালাস করতে অর্থমন্ত্রীর নির্দেশ
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে সর্বোচ্চ চার দিনের মধ্যে পণ্য খালাস নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরের মেহেদীবাগে তাঁর বাসভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশনা দেন তিনি।
সভায় বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের প্রতিনিধি, শীর্ষ ব্যবসায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে অধিকাংশ স্ক্যানিং মেশিন দীর্ঘদিন অচল থাকার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী দ্রুত সেগুলো সচলের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “এত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি কীভাবে দিনের পর দিন অচল থাকে? এ ধরনের গাফিলতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
পণ্যজট ও সরবরাহ ব্যবস্থার ধীরগতির অন্যতম কারণ হিসেবে স্ক্যানিং মেশিনের অচলাবস্থাকে দায়ী করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল চট্টগ্রামে তাঁর প্রথম সফর। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন থেকে নির্বাচিত এ সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্থাপনা—বন্দর, কাস্টমস হাউস, ইস্টার্ন রিফাইনারি, বিমানবন্দর ও সিইপিজেড—অবস্থিত।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত চট্টগ্রাম পোর্ট ইউজার্স ফোরাম-এর প্রতিনিধিসহ বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের নেতারা জানান, কোনো কারণেই যেন এক ঘণ্টার জন্যও বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ না হয়, সে লক্ষ্যে তাঁরা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানের পদ্ধতি অনুসরণ করে সর্বোচ্চ দক্ষতা ও দ্রুততার সঙ্গে বন্দর পরিচালনার বিকল্প নেই। বাজারে পণ্যমূল্য, বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে পরিচালনা ও সেবার ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বন্দর পরিচালনা, কাস্টমস প্রক্রিয়া, পণ্য খালাস ও জাহাজীকরণসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, নৌপরিবহন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়গুলো তিনি নিজেই তদারকি করবেন।
সভা শেষে ব্রিফিংয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বন্দর ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে বাস্তবসম্মত সমাধান নেওয়া হবে।

