ওয়ান ইলেভেনে তারেক রহমানকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন সাবেক সেনাপ্রধান

জাতীয়
ওয়ান ইলেভেনে তারেক রহমানকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন সাবেক সেনাপ্রধান
নিউজ ডেস্ক
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময় বিএনপির সিনিয়র নেতা তারেক রহমানকে তুলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ জবানবন্দিতে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ওয়ান ইলেভেনের সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রকৃত নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই। ওই সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ বহু বেসামরিক মানুষকে তুলে এনে ডিজিএফআইয়ের সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো। তারেক রহমানও এর বাইরে ছিলেন না এবং তাকেও তুলে এনে অমানবিক নির্যাতনের শিকার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

সাবেক সেনাপ্রধান আরও বলেন, বেসামরিক ব্যক্তিদের তুলে এনে ডিজিএফআইয়ের হেফাজতে রাখার বিষয়টি তখন এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এতে করে যে কাউকে ধরে এনে ইচ্ছামতো আচরণ করা যায়—এমন একটি মানসিকতা তৈরি হয়।

এ সময় তিনি সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে র‍্যাব গঠনের আগে পরিচালিত ওই অভিযানে বহু হত্যাকাণ্ড ঘটে। সরকারি হিসাবে ১২ জন জিজ্ঞাসাবাদের সময় হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেও, মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে নিহতের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০ জন। পরবর্তীতে এসব ঘটনায় জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা কার্যত ‘লাইসেন্স টু কিল’-এ পরিণত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিন মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, শাইখ মাহদীসহ অন্যান্যরা। আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী নাজনীন নাহার ও মুনসুরুল হক চৌধুরী।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিচ্ছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।