নির্বাচনের ১০ দিন আগে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় বোয়িংয়ের বিমান কিনতে তোড়জোড়

জাতীয়
নির্বাচনের ১০ দিন আগে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় বোয়িংয়ের বিমান কিনতে তোড়জোড়
নিউজ ডেস্ক
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে মাত্র ১০ দিন বাকি থাকতেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার ৩৭ হাজার কোটি টাকার (৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার) দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

বিমান ও সরকারি সূত্র জানায়, বোয়িংয়ের কাছে ১৪টি উড়োজাহাজের জন্য মোট মূল্যের ওপর ১০ শতাংশ ছাড় আদায়ের জন্য সিয়াটল সদরের বোর্ডে একটি জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে। বোর্ডের অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হবে। তবে বোয়িং ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েছে বলে নতুন ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

বিমান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হওয়ার পর আলোচনার গতি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। মাসের পর মাস ধাপে ধাপে আলোচনা হলেও হঠাৎ নির্বাচনের আগে দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য তৈরি হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে শুরু হবে। অর্থাৎ বর্তমান সরকারের সময় এর কোনো সরাসরি সুফল মিলবে না। তবে ডলারের বিনিময়হার ও মূল্যস্ফীতি অনুসারে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ঝুঁকি থাকতে পারে।

চুক্তির ঠিক আগে বিমানের বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ও নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বোর্ডে যুক্ত হয়েছেন। বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শেখ বশিরউদ্দীন।

বোর্ডের অনুমোদনের পর বোয়িংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। তবে বোর্ড অনুমোদন মিললেও আগামী এক দশক বিমানের সক্ষমতা সংকট রয়ে যাবে। সংস্থাটি বোয়িংয়ের কাছে চারটি উড়োজাহাজ লিজ দেওয়ার অনুরোধ করেছে, তবে লিখিত প্রতিশ্রুতি এখনও নেই।

ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাসও আগ্রহী থাকলেও বোর্ডের কারিগরি মূল্যায়ন অনুযায়ী বোয়িংয়ের প্রস্তাব বিমান সংস্থার জন্য বেশি উপযোগী। গত নভেম্বরে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা এয়ারবাসকে যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

বিমানের সাবেক পরিচালক ও এভিয়েশন বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, “চুক্তিটি যত তাড়াতাড়ি হবে ততই ভালো। তবে সরবরাহ ২০৩১ সালের পর শুরু হওয়ার কথা, তাই বোর্ডকে নিশ্চিত করতে হবে যে তড়িঘড়িতে বিমানের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না হয়।”

উড়োজাহাজ কেনার এই দ্রুত প্রক্রিয়া, শেষ মুহূর্তের ছাড়ের দাবি ও বোর্ড পুনর্গঠন নির্বাচনের ঠিক আগে তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও সক্ষমতা ঝুঁকি বিবেচনা না করে তড়িঘড়ি করা ঠিক হবে না।