ভারতীয় মিডিয়ার বিশ্লেষণ

বাংলাদেশে হাত দিলে খন্ডিত হয়ে যাবে ভারত

জাতীয়
বাংলাদেশে হাত দিলে খন্ডিত হয়ে যাবে ভারত
নিউজ ডেস্ক
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারতের কিছু মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলে বাংলাদেশের ওপর উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য শোনা গেলেও, দেশের ভেতর থেকেই উঠে এসেছে সম্পূর্ণ বিপরীত সতর্কবার্তা। দক্ষিণ ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এবং সামরিক–রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, বাংলাদেশে কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ ভারতের জন্য মারাত্মক এবং দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি তৈরি করবে।

ভারতের শতবর্ষী সংবাদপত্র মাতৃভূমি–তে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শিলিগুড়ি করিডর, ত্রিপুরা ও সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সংযোগ বাংলাদেশে নির্ভরশীল। যদি সেখানে সংঘাত শুরু হয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একজন ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক বলেছেন, “বাংলাদেশে সংঘাত মানে শুধু সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই নয়, পুরো জনগোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চাপ।” বিশ্লেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধ শুরু হলে তা সীমান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। উত্তর-পূর্ব ভারতের জাতিগত ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং অর্থনৈতিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

আন্তর্জাতিক স্তরেও ভারতের ঝুঁকি কম নয়। যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলি সংঘাতকে দ্রুত বহুপাক্ষিক ইস্যুতে রূপান্তরিত করতে পারে। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় “স্থিতিশীল শক্তি” হিসেবে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ দীর্ঘায়িত সংঘাতের জন্ম দিতে পারে, যার প্রভাব পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়বে।

সুতরাং, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মত, উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্যের বাইরে কূটনীতি ও সংলাপই একমাত্র নিরাপদ পথ।