ইন্টারনেট কখনোই বন্ধ করা যাবে না, অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন

জাতীয়
ইন্টারনেট কখনোই বন্ধ করা যাবে না, অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন
নিউজ ডেস্ক
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

ইন্টারনেট বা টেলিযোগাযোগ সেবা কখনোই বন্ধ করা যাবে না—এমন বাধ্যতামূলক বিধান যুক্ত করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশের সংশোধনী চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। একই সঙ্গে সিম ও ডিভাইস রেজিস্ট্রেশনের তথ্য ব্যবহার করে নাগরিকদের নজরদারি বা হয়রানিকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সংশোধিত অধ্যাদেশটি পাস হয়। পরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংশোধনের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০১০ সালের বিতর্কিত সংশোধনী কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স মন্ত্রণালয় ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টাডির ভিত্তিতে অনুমোদন করবে এবং অন্যান্য লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষমতা বিটিআরসির কাছে ন্যস্ত থাকবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এ ছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে একটি ‘জবাবদিহিতা কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

সংশোধিত অধ্যাদেশে লাইসেন্স আবেদন থেকে সিদ্ধান্ত পর্যন্ত সময় কমানো হয়েছে। পাশাপাশি আগের আইনে থাকা উচ্চ ও পুনরাবৃত্ত জরিমানার হার কমিয়ে টেলিযোগাযোগ খাতকে আরও বিনিয়োগবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিটিআরসিকে প্রতি চার মাস অন্তর গণশুনানি আয়োজন এবং তার ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রকাশের বাধ্যবাধকতাও যুক্ত করা হয়েছে।

নতুন সংশোধনীতে সিম ও ডিভাইস রেজিস্ট্রেশনের তথ্য ব্যবহার করে কোনো নাগরিককে নজরদারি করা আইনত অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘স্পিচ অফেন্স’ সংক্রান্ত নিবর্তনমূলক ধারা সংশোধন করে কেবল সহিংসতার আহ্বানকে অপরাধের আওতায় রাখা হয়েছে, যা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আইনানুগ ইন্টারসেপশনের সংজ্ঞা ও সীমা স্পষ্ট করে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিচারিক বা জরুরি প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘সেন্টার ফর ইনফরমেশন সাপোর্ট (সিআইএস)’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশের মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হবে। জাতীয় নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, জরুরি প্রাণরক্ষা বা বিচারিক প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সংস্থাগুলো সুনির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করে ইন্টারসেপশন করতে পারবে।

সিআইএস নিজে কোনো ইন্টারসেপশন পরিচালনা করবে না, কেবল কারিগরি সহায়তা দেবে। এর মাধ্যমে বিদ্যমান এনটিএমসি (ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স মনিটরিং সেন্টার) বিলুপ্ত করা হয়েছে।

আইনানুগ ইন্টারসেপশনের ওপর নজরদারির জন্য আধা-বিচারিক কাউন্সিল ও সংসদীয় তদারকির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। কাউন্সিল বেআইনি ইন্টারসেপশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করবে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি প্রতি বছর এ বিষয়ে জাতীয় বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে এবং বাজেট ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা পর্যালোচনা করবে।

এ ছাড়া ইমেজ ও ভয়েস প্রোটেকশন, সিম ও ডিভাইস ডেটা সুরক্ষার বিধান রাখা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, সংশোধিত অধ্যাদেশ জাতিসংঘ ও আইটিইউসহ আন্তর্জাতিক উত্তম অনুশীলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

উল্লেখ্য, গত ২০ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদে নীতিগত অনুমোদনের পর সংশোধনীটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বুধবারের বৈঠকে উপস্থাপন করা হয় এবং সেদিনই তা অনুমোদন পায়।