জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ব্যবহার নিশ্চিত করছে ইসি

জাতীয়
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ব্যবহার নিশ্চিত করছে ইসি
নিউজ ডেস্ক
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য দেশের সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতিমধ্যেই যেসব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা রয়েছে সেগুলো সচল রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব কেন্দ্রে নেই, সেখানে ভোটের দিনের জন্য অস্থায়ীভাবে ক্যামেরা বসানো হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে এ ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।

ইসি সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে সিসি ক্যামেরা ব্যবহারে কমিশন কিছুটা দ্বিধার মধ্যে ছিল, কারণ নির্বাচনের ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) কয়েকটি রাজনৈতিক দল সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানায়। এরপর মাঠ পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে ইসি দেখেছে, অধিকাংশ কেন্দ্রে ইতিমধ্যেই সিসি ক্যামেরা রয়েছে। আর যেসব কেন্দ্রে নেই, সেখানে শুধু ভোটের দিন অস্থায়ী ব্যবস্থা করলেই ব্যয় বেশি হবে না।

এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব কেন্দ্র বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগহীন, সেখানে সংযোগ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এবারের নির্বাচনে দেশের ৬৪ জেলায় ৩০০ আসনে মোট ৪২,৭৬১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভোটকক্ষে পুরুষ ভোটারের জন্য ১,১৫,১৩৭টি এবং নারীর জন্য ১,২৯,৬০২টি কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মিলিয়ে মোট ২,৪৪,৭৩৯টি ভোটকক্ষ। এছাড়া অস্থায়ী ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৪টি।

পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ৮,২২৬টি ভোটকেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ২০,৪৩৭টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে ইসি এগুলোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

নির্বাচন কমিশনাররা জানিয়েছেন, সিসি ক্যামেরা থাকলে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং কোনো অপরাধ ঘটলে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত করা সম্ভব হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্রে বিদ্যমান সিসি সংযোগ সচল রাখা এবং যেসব কেন্দ্রের ক্যামেরা নেই, সেখানে ভোটের দিন সংযোগ নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে সকল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সিইসি জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত টানা ৯ ঘণ্টা চলবে।

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর। বাছাই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচার ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০ পর্যন্ত চলবে।