যুদ্ধের ইতি টানতে খসড়া প্রস্তাব, দোহা ছেড়েছেন ইরানি প্রতিনিধিরা

যুদ্ধের ইতি টানতে খসড়া প্রস্তাব, দোহা ছেড়েছেন ইরানি প্রতিনিধিরা
২ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিরা দোহা ত্যাগ করেছেন। তবে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আবারও বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছেন আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

সোমবার ওই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার ইরানি প্রতিনিধিরা দোহা ছাড়েন। তবে আলোচনায় কোনো জটিলতা বা মতবিরোধের কারণে তারা শহরটি ত্যাগ করেননি বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। খসড়া প্রস্তাবটির বিস্তারিত বিষয় অবশ্য তিনি প্রকাশ করেননি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের লক্ষ্যে সেপ্টেম্বরে তেহরানের তৈরি সাত দফা পরিকল্পনা নিয়ে এ আলোচনা হয়েছে। সমঝোতা চুক্তি হলে পরিকল্পনার কিছু বিষয় আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান সহজ করতে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দোহায় অবস্থান করছিলেন।

তিনি বলেন, ইরানের দাবিগুলো স্পষ্ট ও স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এসব দাবি যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত। মার্কিন নৌ-অবরোধের অবসান, ইরানের দাবির প্রতি সম্মান এবং দেশটির ন্যায্য প্রয়োজন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো চুক্তি সই হবে না। একই শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত বা নিরাপদ করাও সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হরমুজ প্রণালি খুলতে দুই দিনের প্রস্তাব

শনিবার কাতারের সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে আগে যে সাত দিনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা কমিয়ে দুই দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

এর আগে ইরানের দেওয়া প্রাথমিক প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সংঘাত আবারও বাড়তে পারে—এমন উদ্বেগের মধ্যেই সর্বশেষ দফার কূটনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো। নির্বাচনের বিষয়ে তেহরানের অবস্থান জানতে চাইলে বাঘাই বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কোনো রাষ্ট্রের জন্ম হবে বলে ইরান মনে করে না।

নতুন হামলা আপাতত নয়, তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প

ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালানো হবে না। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

তবে ভবিষ্যতে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলে দোহায় আলোচনা শেষ হলেও সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির শর্ত, হরমুজ প্রণালি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানই পরবর্তী কূটনৈতিক উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।