ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা, কয়েক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ট্রাম্প

ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা, কয়েক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ট্রাম্প
২ নভেম্বর ২০২৬

ইরানে পারমাণবিক হামলা চালানোর বিষয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন—এমন দাবি করেছেন মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসন। তার অভিযোগ, ইরানের একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার অনুমতি আদায়ে ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব দাবি করেন কার্লসন।

সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে মধ্য ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামের একটি স্থানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। কার্লসনের দাবি, ইসরাইলি গোয়েন্দাদের ধারণা, ওই স্থানে ইরান আবারও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

কার্লসনের ভাষ্য অনুযায়ী, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলো প্রায় ৩০০ ফুট পুরু কঠিন গ্রানাইট পাথরে সুরক্ষিত। ফলে প্রচলিত মার্কিন অস্ত্র দিয়ে সেখানে আঘাত করা সম্ভব নয়। তার দাবি, সামরিক পদক্ষেপের একমাত্র বিকল্প হতে পারে পারমাণবিক হামলা।

নিজের পোস্টে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির বক্তব্য উদ্ধৃত করে কার্লসন বলেন, ‘বিবি (নেতানিয়াহু) এ বিষয়ে প্রতিদিন ট্রাম্পকে ফোন করেন।’

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও মন্তব্য করেন এই মার্কিন ভাষ্যকার। তার দাবি, ইসরাইলের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর পার্লামেন্ট নেসেটে ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নেতানিয়াহুর। তা না হলে তিনি ক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি তদন্ত ও কারাদণ্ডের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

কার্লসন আরও অভিযোগ করেন, ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু। তাদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।

এ ছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফও নেতানিয়াহুর অবস্থান অনুসরণ করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

দোহায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে শান্তিচুক্তির খসড়া তৈরি করা হচ্ছিল, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও তার বিরোধিতা করেছিলেন বলে দাবি করেন কার্লসন।

উল্লেখ্য, টাকার কার্লসন একজন রক্ষণশীল মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার এবং ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক। ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি ‘টাকার কার্লসন টুনাইট’ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের স্বাধীন রাজনৈতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করছেন।

তবে ইরানে পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি চলছে কিংবা ট্রাম্পের প্রশাসন কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে—কার্লসনের এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মার্কিন ও ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়নি। তাই দাবিগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।