ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পরও উত্তেজনা: দ্বিতীয় দফা যুদ্ধের শঙ্কা

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পরও উত্তেজনা: দ্বিতীয় দফা যুদ্ধের শঙ্কা
নিউজ ডেস্ক
২৫ জুলাই ২০২৫

ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সামরিক সংঘাতকে নিজেদের জন্য “সফল” দাবি করেছে ইসরায়েল। নিহত হয়েছে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের প্রতিরক্ষা অবকাঠামো এবং যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে টানতে পেরেছে তেলআবিব।
এদিকে ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তারা আরও বড় হামলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে ইসরায়েলের আকস্মিক বিমান হামলা থেকে শুরু হয় এই সংঘাত, যেখানে নিহত হয় প্রায় ১ হাজার ইরানি এবং ২৯ জন ইসরায়েলি। যুদ্ধের পর থেকেই উভয়পক্ষ কৌশলগত অবস্থান নিলেও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এখন প্রবল।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন,

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

“আমি গ্যাসের প্যাডাল চাপা বন্ধ করার কোনো চিন্তাই করছি না।”

তার এই মন্তব্য বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে দ্বিতীয়বার হামলার ইঙ্গিতই বহন করছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন,

“আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। ইসরায়েল হামলা করলে, এবার আঘাত হানব তাদের ভেতরে।”

তেহরানের মতে, ইসরায়েল শুধু পরমাণু স্থাপনা নয়, বরং দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করেছে— যা সরাসরি শাসনব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের শামিল।

নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েল এরই মধ্যে ইরানে গোপন অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটাচ্ছে।
বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও শিল্প কারখানায় সাম্প্রতিক বিস্ফোরণগুলোকে “নাশকতা” বলেই আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন ও ইউরোপীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
সিদ্ধান্ত হয়েছে— আগস্টের মধ্যে নতুন কোনো পারমাণবিক চুক্তি না হলে, জাতিসংঘের আগের নিষেধাজ্ঞাগুলো ফের কার্যকর হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞাই ইসরায়েলের জন্য আরও হামলার বৈধতা তৈরির কৌশল হতে পারে।

ইরান-ইসরায়েল বিষয়ে রাইখমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেইর জাভেদানফার বলেন,

“ইসরায়েল যদি আবার যুদ্ধ চায়, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া তা কঠিন হবে।”

অন্যদিকে ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক নেগার মরতাজাভি মনে করেন,

“ইরান কূটনীতিক চুক্তির মাধ্যমে উত্তেজনা কমাতে চায়। তবে যুদ্ধ হলে এবার প্রস্তুতিহীন থাকবে না তারা।”

মধ্যপ্রাচ্যের দুই শক্তিধর দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও এক ধ্বংসাত্মক সংঘাতে গড়াতে পারে। বিশ্ব সম্প্রদায় এখন তাকিয়ে— নতুন একটি পারমাণবিক চুক্তির দিকে, যা না হলে স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠতে পারে যে কোনো সময়।