ক্ষুধা যখন যুদ্ধাস্ত্র: গাজার নিঃশব্দ গণহত্যা চলছেই

ক্ষুধা যখন যুদ্ধাস্ত্র: গাজার নিঃশব্দ গণহত্যা চলছেই
নিউজ ডেস্ক
২৩ জুলাই ২০২৫

ক্ষুধা কি যুদ্ধের অংশ? গাজার বর্তমান বাস্তবতা দেখে সেই প্রশ্নই সামনে চলে আসে। গুলির আওয়াজ হয়তো কিছু সময় চুপ থাকে, কিন্তু ক্ষুধা, অনাহার আর মৃত্যু—এসব নিরব অস্ত্র এখন গাজার প্রতিটি গলিতে ছড়িয়ে রয়েছে।

মাত্র ২৪ ঘণ্টায় অনাহারে মারা গেছেন ১৫ জন ফিলিস্তিনি—তাদের একজন মাত্র ছয় সপ্তাহের শিশু। শিশুটির অপরাধ, সে ভুল ভৌগোলিক সীমান্তে জন্মেছে।

ইউসুফ আবু জাহির—গাজার খান ইউনিসের একটি পরিবারের নতুন সদস্য। জন্মেছিল দুধ আর সুরক্ষার আশায়। কিন্তু দুধ নেই, সুরক্ষা তো আরও দূরে। মৃত্যুই তার প্রথম ও শেষ বাস্তবতা।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তবে ইউসুফ একা নয়—তার সঙ্গে মৃত্যুর মিছিলে আছে ১৪ জন মানুষ, যাদের মুখে ক্ষুধা ছিল, হাতে অস্ত্র নয়।

ইসরায়েলি অবরোধের মধ্যে সীমিত খাদ্য সহায়তা ঢুকছে, কিন্তু তা যাচ্ছেও সীমিত গন্তব্যে—সরকার-সমর্থিত সংস্থা জিএইচএফ-এর হাতে। আর যেখানে সাধারণ মানুষ সহায়তার লাইনে দাঁড়ায়, সেখানেই ঝরে পড়ে গুলি।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, শুধুমাত্র মে মাসের পর থেকে ১,০০০+ ফিলিস্তিনি সহায়তা নিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

আল-শিফা ও আল-আকসা হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, তারা আর চিকিৎসা দিতে পারছেন না—কারণ, রোগীর অসুখ ক্ষুধা।
৬ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে, যার মধ্যে অন্তত ৬০ হাজার গর্ভবতী নারী।

ডিহাইড্রেশন, রক্তস্বল্পতা, ক্লান্তি—সবই মৃত্যুর নতুন নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস বলেন, “গাজায় যা ঘটছে তা সমসাময়িক ইতিহাসে নজিরবিহীন।”
কিন্তু তাতে গাজাবাসীর জীবনে কোনো পার্থক্য নেই—কারণ বিবৃতি খাওয়ায় না, চিকিৎসা দেয় না, নিরাপত্তা দেয় না।

অবরোধ, সহায়তা বন্ধ, চিকিৎসা নেই, নিরাপত্তা নেই—এই অবস্থাকে কীভাবে শুধুই “সংকট” বলা যায়?
এটা দীর্ঘস্থায়ী পদ্ধতিগত নিপীড়ন, যা দিনের শেষে আরেকটি শিশুর কফিনে পরিণত হয়।