তিউনিসিয়ায় প্রেসিডেন্টের খবর না দেখায় বন্দির ছয় মাসের কারাদণ্ড

তিউনিসিয়ায় প্রেসিডেন্টের খবর না দেখায় বন্দির ছয় মাসের কারাদণ্ড

তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদ। ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক
১৩ জুলাই ২০২৫

তিউনিসিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রশ্নে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এক অভাবনীয় ঘটনা। দেশটির একটি কারাগারে প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদের টিভি সাক্ষাৎকার দেখতে অস্বীকৃতি জানানোর দায়ে এক কারাবন্দিকে ছয় মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বন্দির আইনজীবী আদেল সঘায়ার বরাতে জানা গেছে, শুরুতে তার মক্কেলের বিরুদ্ধে তিউনিসিয়ার ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৬৭ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের অবমাননা অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে মামলার রাজনৈতিক মাত্রা কমাতে অভিযোগটি পরিবর্তন করে “সর্বজনীন শালীনতা লঙ্ঘন” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে যখন এক সন্ধ্যায় কারাগারের সেলে থাকা টেলিভিশনে প্রেসিডেন্ট সাঈদের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সম্প্রচার হচ্ছিল। তখন ঐ বন্দি তা দেখতে অস্বীকৃতি জানান এবং টিভি চ্যানেল পরিবর্তনের দাবি তোলেন। এসময় তিনি ক্ষোভে কিছু অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করেন বলে জানা গেছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পরবর্তীতে একই সেলের এক বন্দি বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

ওই বন্দি এক সময় ইতালিতে অনিয়মিত অভিবাসী হিসেবে বসবাস করছিলেন। প্রেসিডেন্ট সাঈদের নেতৃত্বে ইতালির সঙ্গে করা চুক্তির মাধ্যমে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। আইনজীবীর দাবি, প্রেসিডেন্টের নীতির কারণেই তার মক্কেলের জীবন নষ্ট হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিউনিসিয়ান হিউম্যান রাইটস লিগের গাফসা শাখা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখন শুধু রাজপথেই নয়, কারাগারের ভেতরেও হুমকির মুখে।”

২০১৯ সালে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদ ২০২১ সালে সংসদ ভেঙে দিয়ে ডিক্রি শাসন চালু করেন। এরপর থেকে দেশের বিচারব্যবস্থা ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। তিউনিসিয়া এক সময় আরব বসন্তের পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত হলেও এখন দেশটির গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হুমকির মুখে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।