মুসলিম পণ্ডিতদের কণ্ঠে ফতোয়া: ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ‘আল্লাহর শত্রু’
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর “হত্যামূলক” বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় এবার মুখ খুলেছেন মুসলিম বিশ্বের পণ্ডিত ও বুদ্ধিজীবীরা। ৩০টিরও বেশি দেশের শিয়া ও সুন্নি আলেম ও চিন্তাবিদরা একযোগে প্রকাশ করেছেন এক কঠোর ফতোয়া ও যৌথ বিবৃতি, যেখানে তারা ইসলামি ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা বিশ্বজুড়ে ইসলামী স্কলারদের একটি অস্বাভাবিক ঐক্যের নিদর্শন স্থাপন করেছেন। স্বাক্ষরদাতারা এসেছেন ইরাক, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, পাকিস্তান, লিবিয়া, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, মিশর, যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, রাশিয়া, লেবানন, কাতার, ইয়েমেনসহ অন্তত ৩০টি দেশ থেকে।
ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বক্তব্য শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়—এটি ইসলামের বিরুদ্ধে সরাসরি ঘোষণা করা যুদ্ধ। আলেমরা কোরআনের আয়াত উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের হুমকি দেওয়া ব্যক্তিরা “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত” এবং “বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী।” তারা বলেন, ইসলামি ভূমি দখল, ফিলিস্তিনিদের গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য এদেরকে দায়ী করতে হবে।
ফতোয়ায় বিশেষভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণকেও শরিয়াহর দৃষ্টিতে ‘হারাম’ বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, “অবৈধ দখলদার জায়নবাদী রাষ্ট্র ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গে যেকোনো ধরণের আপস, সহযোগিতা বা সম্পর্ক স্থাপন ধর্মীয়ভাবে বেআইনি এবং এটি নিপীড়িত জাতিগুলোর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।”
এদিকে ইরানের শীর্ষ শিয়া আলেম আয়াতুল্লাহ নাসের মাকারেম শিরাজিও সম্প্রতি এক ফতোয়ায় বলেন, “যে কেউ ইসলামি নেতাদের হুমকি দেয়, সে সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করে।” তিনি মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধভাবে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু জোটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই যৌথ ফতোয়া ইসলামি বিশ্বের ধর্মীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে এক বিরল সংহতির চিত্র তুলে ধরেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।


