ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড়সড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান
দীর্ঘ ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। যদিও ইসরায়েল এটিকে ‘কৌশলগত জয়’ হিসেবে দেখছে, তেহরানের কাছে এটি একটি সাময়িক বিরতি মাত্র—পরবর্তী লড়াইয়ের প্রস্তুতির সুযোগ।
সূত্র জানায়, ইরান এই বিরতিকে ‘স্ট্র্যাটেজিক পজিশনিং’-এর অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে। যুদ্ধের সময় ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও, পাল্টা হামলায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ফাঁকফোকর তৈরি করেছে তেহরান।
যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কমান্ডার ও ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো হারালেও, ইরান এখন নতুন প্রযুক্তি ও সমরাস্ত্র সংগ্রহে মনোযোগী। বিশেষ করে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ’ ও ‘খাইবার শেকান’ যুক্ত করা, ড্রোন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
রাশিয়ার এস-৪০০ ও সু-৩৫ ছাড়াও, চীনের জে-১০ ও জে-২০ যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে তেহরান। সাম্প্রতিক হামলায় নজরদারি ব্যবস্থার অভাব চিহ্নিত হওয়ার পর, চীন-রাশিয়ার সহায়তায় আধুনিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি সংগ্রহের তৎপরতা শুরু করেছে ইরান।
সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে কূটনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের ময়দানেও সক্রিয় হচ্ছে ইরান। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান।
পাশাপাশি, পারমাণবিক আলোচনায় ফেরার আগেই যুদ্ধ ও ক্ষয়ক্ষতির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি করছে ইরান। ইতোমধ্যে আইএইএ’র সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করা হয়েছে এবং গোপনে মজুত রাখা ইউরেনিয়ামকে কৌশলগত ‘চাপের অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত মিলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন সময়কে নিজের পক্ষে ব্যবহার করতে চায়। তেহরানের ধারণা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে, আর সে সুযোগেই ইরান সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি পুনর্গঠন করবে।
এই যুদ্ধবিরতি তাই এক অর্থে বড় ধরনের সংঘাতের প্রস্তুতি মাত্র। এখন প্রশ্ন উঠছে—এই সময়ের খেলা শেষ পর্যন্ত কে জিতবে: তেহরান না তেলআবিব?


