যুদ্ধ-পরবর্তী ধ্বংসযজ্ঞে গাজার প্রতিচ্ছবি দেখছে ইহুদিরা, স্বীকার করল ইসরাইলি মিডিয়া
ইরান থেকে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ও জাতীয় মনোবলে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো একে “অভূতপূর্ব কৌশলগত ও মানসিক পরাজয়” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
হারেৎজ, +৯৭২ ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য হিব্রু ভাষার গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলি সমাজে এক ধরনের ‘অনাক্রম্যতার অনুভূতি’ বিদ্যমান ছিল যা এই হামলার পর চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। সাংবাদিক ও বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণ নাগরিকরা এখন অনুভব করছেন যে যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক বাস্তবতা থেকে ইসরায়েল আর আলাদা নয়।
হারেৎজ এক বিশেষ বিশ্লেষণে জানিয়েছে, “ইরানের পাল্টা হামলা শুধু তেল আবিবে বিস্ফোরণ ঘটায়নি, এটি ইসরায়েলের জাতীয় পরিচয়ের কেন্দ্রে এক সরাসরি আঘাত। দেশটির বহু অঞ্চল এখন গাজার ধ্বংসস্তূপের মতো দেখাচ্ছে।”
রামাত গান, তামরা, এবং অন্যান্য শহরে আঘাত হানার পর ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও স্বীকার করছেন যে, ইরানের এই কৌশলগত বার্তা ছিল জোরালো ও সুপরিকল্পিত। এর প্রভাব শুধু শারীরিক ধ্বংসে সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি জাতির আত্মবিশ্বাসেও গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।
টাইমস অফ ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর নেতানিয়াহুর দিকনির্দেশনার অভাব ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।”
বিশ্লেষণ বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আহ্বানও ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের দ্বিধাগ্রস্ত করে তুলেছে। এ নিয়ে বিভ্রান্তি বাড়ছে প্রশাসনের ভেতরেও।
+৯৭২ ম্যাগাজিন বলছে, “ইসরায়েল এখন এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি যেখানে গাজায় সংঘটিত ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিচ্ছবি তারা নিজেদের শহরে দেখতে পাচ্ছে। একসময় যারা যুদ্ধকে সীমান্তের ওপারে রেখেছিল, এখন তারাই বিস্ফোরণের শব্দে জেগে উঠছে।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র থামাতে পারে, কিন্তু তা একটি জাতিকে তার নিজের সিদ্ধান্তের পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পারে না।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা শুধু সাময়িক রাজনৈতিক উত্তাপ নয় — বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো ও সামরিক ভারসাম্যে একটি স্থায়ী পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে এসেছে। ইসরায়েলের জন্য এটি একটি সতর্ক সংকেত: অনাক্রম্যতার দিন শেষ।


