আমতলীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আগাম ছুটি অভিভাবকদের ক্ষোভ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

দেশজুড়ে
আমতলীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আগাম ছুটি অভিভাবকদের ক্ষোভ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

oplus_0

৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বরগুনার আমতলীতে বিএনপির জনসভাকে কেন্দ্র করে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ের প্রায় আড়াই ঘণ্টা আগে ছুট দেওয়ার ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির অজুহাতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

জানা গেছে, বরগুনা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লার আয়োজনে রবিবার বিকেল চারটায় আমতলী পৌরসভা মাঠে জনসভা শুরু হয়। জনসভার কারণে আমতলী একে হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ের আড়াই ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ দুপুর দুইটায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয় অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয় সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত পাঠদান চলার কথা। কিন্তু জনসভার অজুহাত দেখিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম জিল্লুর রহমান আগাম ছুটি দেন। রবিবার দুপুর দুইটার দিকে বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মূল ফটক তালাবদ্ধ। সেখানে কোনো শিক্ষক, শিক্ষার্থী কিংবা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম জিল্লুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয়ের পাশেই একটি বড় জনসভা থাকায় উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসারের অনুমতি নিয়ে ছুটি দেওয়া হয়েছে।” তবে উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার মোসা. শাহিনুর আক্তার বলেন, “আড়াইটার পর বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষকদের আগেভাগে চলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।”

আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সফিউল আলম বলেন, “জনসভার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি অবগত হয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা সাংবিধানিক দায়িত্ব। অন্যথায় শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।