ধীরে ধীরে ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন গিয়াস উদ্দিন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে রাজনৈতিক সমীকরণ হয়ে উঠছে জটিল ও কৌতূহলোদ্দীপক। একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর ভিড়ে এই আসনে ধীরে ধীরে ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন গিয়াস উদ্দিন। মাঠের বাস্তবতা, ভৌগোলিক হিসাব এবং ভোটের অঙ্ক সব মিলিয়ে এই আসনের লড়াইয়ে তার অবস্থান দিন দিন আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।
এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইকবাল হোসাইন, স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এই তিন প্রার্থীরই বাড়ি সোনারগাঁ উপজেলায়। বিপরীতে গিয়াস উদ্দিনের রাজনৈতিক ঘাঁটি সিদ্ধিরগঞ্জে। যদিও সিদ্ধিরগঞ্জ ভৌগোলিকভাবে তুলনামূলক ছোট অংশ, তবে এখানকার ভোটার সংখ্যা দুই লাখের বেশি। এই বিশাল ভোটব্যাংকই গিয়াস উদ্দিনকে অন্যদের চেয়ে আলাদা জায়গায় নিয়ে গেছে। শুরুর দিকে মান্নান এই আসনে এগিয়ে থাকলেও ক্রমশ তার জনপ্রিয়তা কমে গেছে।
এদিকে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন গিয়াস উদ্দিন। ফলে শুধু সিদ্ধিরগঞ্জ নয়, সোনারগাঁয়ও তিনি নিজের জন্য গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
অন্যদিকে সোনারগাঁয়ে বাকি প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে থাকলেও সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে তাদের সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগত উপস্থিতি তুলনামূলক দুর্বল। এই দ্বৈত বাস্তবতা ভোটের সমীকরণে গিয়াসকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা।
রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার দিক থেকেও গিয়াস উদ্দিন অন্যদের চেয়ে এগিয়ে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতা তো আছেই, পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কঠিন বাস্তবতায় জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময়ে সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ওয়ার্ড ও ইউনিটভিত্তিক সংগঠন পুনর্গঠন, আন্দোলনে নেতাকর্মীদের মাঠে সক্রিয় রাখা সবকিছুই ছিল দীর্ঘ এক রাজনৈতিক প্রস্তুতির অংশ।
তফসিল ঘোষণার পর থেকে নিয়মিত মাঠে রয়েছেন তিনি। ছোট সভা, ঘরোয়া বৈঠক, নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করছেন। নেতাকর্মীদের চাপ, তৃণমূলের আবেগ এবং নিজের রাজনৈতিক সামর্থ্যের ওপর আত্মবিশ্বাস সব মিলিয়েই এই কঠিন লড়াইয়ে তিনি টিকে আছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, সংগঠন, পরিচিত মুখ এবং মাঠের বাস্তব দখল এই তিনটি জায়গাতেই এখন পর্যন্ত গিয়াস উদ্দিন তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক তাকে অন্য প্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে রাখছে। তার নিজের ভাষায়, খেলার ফয়সালা হয় ভোটের দিন, প্রতীক দিয়ে নয়।


